দশমিনায় জি-৯ কলা চাষে সাফল্য

রবিউল হাসান ডব্লিউ, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের দক্ষিণ রণগোপালদী গ্রামের কৃষক শাহ আলম জমাদ্দার উচ্চ ফলনশীল জি-৯ (গ্র্যান্ড নাইন) জাতের

2026-07-07T15:44:27+00:00
2026-07-07T15:44:27+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
দশমিনায় জি-৯ কলা চাষে সাফল্য
রবিউল হাসান ডব্লিউ, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম   (ভিজিট : ৮৩)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের দক্ষিণ রণগোপালদী গ্রামের কৃষক শাহ আলম জমাদ্দার উচ্চ ফলনশীল জি-৯ (গ্র্যান্ড নাইন) জাতের কলার বাণিজ্যিক চাষ করে এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে কৃষির সঙ্গে যুক্ত এই উদ্যোক্তা অনলাইনে ভিডিও দেখে প্রথমে রংপুরের একটি নার্সারি থেকে ১০০টি জি-৯ কলার টিস্যু কালচার চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ১৫০টি গাছ রয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় শাহ আলম জমাদ্দারকে নগদ সহায়তার পাশাপাশি ৩০টি জি-৯ কলার চারা ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত তার বাগান পরিদর্শন ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

শাহ আলম জমাদ্দার জানান, আগে তিনি বরইসহ বিভিন্ন ফলের চাষে সফলতা পেয়েছিলেন। পরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ও এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের সহায়তায় জি-৯ কলা চাষে উদ্বুদ্ধ হন। বর্তমানে দুই একর জমিতে ১২ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কলার গাছ রোপণ করেছেন। গাছের মাঝখানে আমের চারাও লাগানো হয়েছে, যা সমন্বিত বাগান ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ।

তিনি বলেন, জি-৯ কলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ফলন ও বাজারমূল্য। সাধারণ কলার তুলনায় এ জাতের কলা আকারে বড় এবং প্রতিটি কাঁদিতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত কলা ধরে। বর্তমানে তার বাগানের ১৫ থেকে ১৬টি গাছে কলা এসেছে। এছাড়া তিনি নিজের নার্সারি থেকে প্রতি কলার চারা ন্যূনতম ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

শাহ আলমের ভাষ্য, শুরুতে বাগান স্থাপনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বছরে উল্লেখযোগ্য লাভের আশা করছেন তিনি। তার দাবি, জি-৯ কলা চাষে তুলনামূলক কম শ্রম লাগে। গাছ বড় হলে বাঁশের ঠেকনা দিলেই যথেষ্ট। তিনি নিয়মিত রাসায়নিক ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী মোচা কাটার পর ফলকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষায় সীমিত পরিসরে কীটনাশক প্রয়োগ করেন।

তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদের পরামর্শে তিনি নতুন নতুন ফলের চারা সংগ্রহ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতাই তাকে নতুন উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করেছে।

জমাদ্দার নার্সারিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী অনুপ কুমার শানু বলেন, শাহ আলম জমাদ্দারের জি-৯ কলার বাগান দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। এত সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে কলা চাষ করা হয়েছে, যা আমাদের এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। এ ধরনের আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল কলা চাষ অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করবে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এমন উদ্যোগ আরও বাড়লে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.জাফর আহমেদ বলেন, জি-৯ একটি উচ্চ ফলনশীল ও লাভজনক জাতের কলা। ফলন বেশি হওয়ায় কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। কৃষি বিভাগ সব সময় শাহ আলম জমাদ্দারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, তার মতো প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক কৃষি উদ্যোক্তা গড়ে উঠুক।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy