
X
ছবি: প্রতিনিধি
টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার সাত উপজেলার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী কয়েক হাজার পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদরে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সদর উপজেলার ক্যংচিংঘাটা, কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া ও কসাইপাড়াসহ জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে কয়েক হাজার পরিবার বসবাস করছে। টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী কালাম, রহিম ও হাসানসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা পাহাড়ের নিচে বসবাস করছেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কম দামে পাহাড়ঘেঁষা জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করেছেন। ঝুঁকির বিষয়টি জানলেও বিকল্প আবাসনের সুযোগ না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হয়।
বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, "অতিরিক্ত পাহাড় কাটার কারণে পাহাড়ের ওপরের শক্ত মাটির স্তর সরে গিয়ে ভেতরের নরম অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এতে ভূমিক্ষয় ও ফাটল সৃষ্টি হয়। ভারী বর্ষণে সেই ফাটলে পানি ঢুকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।"
বান্দরবান পৌর প্রশাসক মঞ্জুর আলম বলেন, "টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৌর প্রশাসন সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, "সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, টানা অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবানের থানচি, রুমা, লামা ও আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন সড়কের কয়েকটি অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সাঙ্গু নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় থানচির তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণে মৌখিক সতর্কতা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্গম এসব এলাকায় আটকে পড়া প্রায় দেড় শতাধিক পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে থানচি সদরে নিয়ে এসেছে প্রশাসন।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, "পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় ভ্রমণ এবং নৌযান চলাচল থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে অপ্রয়োজনে ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।