প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম (ভিজিট : ৩৮)

X
১২ ঘণ্টার মধ্যে স্বামী গ্রেপ্তার
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত বর্না খানমের (২৮) মরদেহ শ্বশুরবাড়ির পেছনের একটি পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী আল আমিন ব্যাপারী ওরফে আলামিনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আল আমিন ব্যাপারীর বাড়ি ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার রঘুনন্দপুর এলাকায়। তাঁর স্ত্রী বর্না খানম গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ধানকোড়া দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। প্রায় ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আল আমিন প্রায়ই স্ত্রীকে গালিগালাজ ও মারধর করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই সকাল ১১টার দিকে আল আমিন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শ্বশুর মিজানুর রহমান মুন্সীর বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর ৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আল আমিন তাঁর স্ত্রীকে ডেকে বাড়ির পেছনে নিয়ে যান। অভিযোগ, ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে যেকোনো সময়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেন এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পুকুরের পূর্ব পাড়ের পানির কিনারায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পুলিশ আরও জানায়, ভেজা লুঙ্গি, গামছা ও গেঞ্জি হাতে নিয়ে আল আমিনকে দৌড়ে রাস্তার দিকে যেতে তাঁদের ছেলে ইস্রাফিল দেখতে পায়। পরে সে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুরপাড়ে বর্না খানমের গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় কাশিয়ানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এসআই মো. বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মামলা দায়েরের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।