আদালতের নির্দেশ, বাধায় কবর থেকে তোলা হলো না জুলাই শহীদের মরদেহ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আদালতের নির্দেশে জুলাই শহীদ কথিত কবির হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও

2026-07-08T12:50:15+00:00
2026-07-08T12:50:15+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
আদালতের নির্দেশ, বাধায় কবর থেকে তোলা হলো না জুলাই শহীদের মরদেহ
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম   (ভিজিট : ৪১)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আদালতের নির্দেশে জুলাই শহীদ কথিত কবির হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা পশ্চিম থানার একটি দল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কিশোরীনগর কবরস্থানে যায়। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা ও গোপনীয় শাখার সহকারী কমিশনার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দৌলতপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এমদাদুল হক টুটুল উপস্থিত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় গত ৫ আগস্ট ঢাকার উত্তরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন দৌলতপুর উপজেলার কিশোরীনগর গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী কথিত কবির হোসেন (৫০)। তিনি পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরায় বসবাস করতেন। নিহত হওয়ার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ির কিশোরীনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের দাবি, কবির হোসেন বাংলাদেশ সরকারের গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদ।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা কবরস্থানে পৌঁছালে নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন ও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উত্তোলনে আপত্তি জানান। এ সময় তাঁরা কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কাছে মরদেহ উত্তোলন স্থগিতের আবেদনও জমা দেন। পরে প্রশাসন মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম স্থগিত রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী তো অনেক আগেই মারা গেছেন। এতদিন পর তাঁর মরদেহ কবর থেকে তুলে কী হবে? আমরা ময়নাতদন্ত চাই না।” এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, দৌলতপুরের বাসিন্দা কবির হোসেন গত ৫ আগস্ট ঢাকার উত্তরা এলাকায় নিহত হন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর দাফন হওয়ায় আদালতের নির্দেশে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়। তবে পরিবারের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। কথিত কবির হোসেন উপজেলার কিশোরীনগর এলাকার মৃত মোজাহার আলীর ছেলে।

এলাকাবাসী ও একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কবির হোসেন পরিচয়দানকারী ব্যক্তির প্রকৃত নাম বাকের আলী। তিনি জাসদের তৎকালীন কার্যকরী সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচ জাসদ নেতাকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে আত্মগোপনে ছিলেন। ময়নাতদন্তে প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁর মরদেহ উত্তোলনে বাধা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy