
X
ছবি: প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এটি গত ৪২ বছরের মধ্যে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার এই ৪১২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ঘটনা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৪২ বছরের মধ্যে বন্দরনগরীতে এক দিনে এত বেশি বৃষ্টিপাত আর রেকর্ড হয়নি। ফলে এটি একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য ঝুঁকি এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে মানুষের দুর্ভোগ, কষ্ট, ভোগান্তি বেড়েছে। নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, মোহরা, কুয়াইশ, অক্সিজেনসহ নিচু এলাকার সড়ক, অলিগলি, ভবনের নিচতলা ও দোকানপাটে পানি উঠেছে।
পানি উঠেছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচতলায়ও। অনেক পরিবারের চুলা ডুবে গেছে।
নগরের বাইরে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, সাতকানিয়া, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালীসহ প্রায় সব উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। সন্দ্বীপ যাওয়া-আসা একপ্রকার বন্ধ রয়েছে।
কোথাও কোথাও মহাসড়ক এমনকি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনও ডুবে গেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত করায় অভিভাবকেরা স্বস্তির কথা জানিয়েছেন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের সতর্কতা বহাল আছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন, বুধবারের ডিপার্চার এবং অ্যারাইভাল কোনো ফ্লাইটই বাতিল/বিলম্ব/ডাইভার্ট হয়নি। এ বিমানবন্দরের নিয়মিত ফ্লাইট অপারেশন অদ্যাবধি স্বাভাবিক রয়েছে।
পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। মেয়র ১০১ সদস্যের কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছেন। যেখানে পানি আটকে যাচ্ছে, সেখানে চসিক ও সিডিএ’র লোকজন ছুটে যাচ্ছেন।