রায়পুর পৌরসভার ড্রেন নির্মাণে চরম অব্যবস্থাপনা: মরণফাঁদে পরিণত খোলা গর্ত

প্রতিনিধি (লক্ষীপুর) রায়পুর

সারাবাংলা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার কোটি কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক। প্রায় তিন বছরেও ড্রেন নির্মাণের কাজ

2026-07-08T13:57:41+00:00
2026-07-08T13:57:41+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
রায়পুর পৌরসভার ড্রেন নির্মাণে চরম অব্যবস্থাপনা: মরণফাঁদে পরিণত খোলা গর্ত
প্রতিনিধি (লক্ষীপুর) রায়পুর
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম   (ভিজিট : ১৭০)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার কোটি কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক। প্রায় তিন বছরেও ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অথচ আরও এক বছর আগেই কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি, দায়িত্বহীনতা এবং অনিয়মের ফলে পানি নিষ্কাশন থেকে শুরু করে চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই রায়পুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। নির্মাণাধীন ড্রেনের গর্তে পড়ে এরইমধ্যে আহত হয়েছে ১০ জনের বেশি। পঙ্গুও হয়েছেন দুইজন। ।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, রায়পুর পৌরসভার অধীনে IUGIP প্রকল্পের আওতায় নতুন বাজার থেকে মহিলা কলেজ এবং থানার মোড় থেকে নর্দমা পর্যন্ত দুটি আধুনিক ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। নতুন বাজার-মহিলা কলেজ অংশের তিনটি প্যাকেজে প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং থানার মোড়-নর্দমা অংশে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নতুন বাজার থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও প্রতিষ্ঠানটি আংশিক কাজ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করেছে। এরপর থেকে কাজ প্রায় বন্ধ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, আর খোলা ড্রেনে পড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। অন্যদিকে, থানার মোড় থেকে নর্দমা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস-এর বিরুদ্ধেও শুরু থেকেই ধীরগতিতে কাজ করায় পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাগিদ দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো গুরুত্ব দেয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ফেলে রাখা নির্মাণকাজে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ড্রেন খননের কারণে অনেক জায়গায় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও নিরাপত্তা ব্যারিকেড নেই, নেই সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। রাতে এবং বৃষ্টির সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের দায়িত্বহীনতা আরও বেড়েছে। এতে কোটি টাকার প্রকল্প আজ জনদুর্ভোগের প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পের সুফল পেতে পৌরবাসীকে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে?

ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো সোহেল আলম বলেন, কাজে কোন অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিমুহূর্তেই পৌরসভা তদবির করছে। লেবার সংকটের কারণে কাজটি দ্রুত করা যাচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। 

রায়পুর পৌর সভার উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহামুদুন্নবি বলেন, কাজের মান ঠিক আছে। কাজের ধীরগতির কারণে বর্ষায় জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। কাজ দ্রুত করার জন্য ঠিকাদারকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।  আমরা চেষ্টা করছি ঠিকাদারকে দিয়ে দ্রুতই  কাজ শেষ করে দুর্ভোগ কমাতে। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy