
X
ছবি: প্রতিনিধি
হিজল গাছ। প্রকৃতিতে তার অপরুপ ফুল, ফল, শীতল ছায়া আর দীর্ঘজীবী রুপের জন্য বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ অবদন রেখে আসছে। কবি জীবনানন্দ দাশের রুপসী বাংলা কবিতায় হিজল বারবার উঠে এসেছে বাংলার প্রাকৃতিক রুপের অনুষঙ্গ হিসেবে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখাতেও হিজল ফুলের স্নিগ্ধ গন্ধ ও সৌন্দর্যের বর্ণনা পাওয়া যায়।
প্রকৃতি থেকে বিলুপ্তপ্রায় এই হিজল গাছের অপরুপ সৌন্দর্য চোখে পড়বে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক এর বিভাজনে।
হিজল গাছের ঝুলন্ত লম্বা ফুল ও ঘনসবুজ পাতায় ঘেরা গাছটির সৌন্দর্য মহাসড়কে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করেছে। সড়কটিতে চালাচল করা যাত্রী ও পথচারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি মুগ্ধতা ছড়িয়েছে এই সারিসারি হিজল গাছ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন ভবানীপুর বাসস্ট্যান্ডের একটু সামনে থেকে মেম্বারবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক জুরে এই হিজক গাছের অপরুপ সৌন্দর্য চোখে পড়বে।
সারিসারি হিজলের গাছ, প্রতিটি গাছেই ঝুলছে দৃষ্টি নন্দিত মনোমুগ্ধকর সুদীর্ঘ ঝুলন্ত লাল গোলাপি রঙের ফুল, ফুলগুলো মাটিতে ঝরেপড়ায় মনে হয় মাটিও সেজেছে রঙিন সাজে।
এছাড়া ঘনপল্লবিত সতেজ সারি সারি গাছগুলো দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। বাংলার নদী হাওর বিলের মুগ্ধতার প্রতীক এই হিজল গাছ এখন শোভা পাচ্ছে মহাসড়কে। যা এই মহাসড়কে চলাচল করা যাত্রী সাধারন ও পথচারীদের নজর কাটছে।
বিকেল গড়িয়ে পড়তেই হিজলের মুগ্ধতা দেখতে পথচারী ও প্রকৃতি প্রেমীরাও ভীড় করছে মহাসড়কে।
গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষার শুরুতে হিজল গাছে ফুল ফোটে। লম্বা ঝুলন্ত রেশমি কোমল পুষ্পদন্ডগুলো দেখতে অনেকটা গোলাপি বা লাল রঙের মতো। গভীর রাতে ফুল ফোটে এবং সকালে আলো ফোটার আগেই ঝরে যায়।
ফুলে একধরনের মিষ্টি মাতাল গন্ধ থাকে যা চারপাশের পরিবেশকে সুরভিত করে। হিজল গাছের ছাল, পাতা ও ফল বিভিন্ন রোগ নিরাময়সহ চর্মরোগ ও বিভিন্ন ত্বকের ক্ষত সারাতে হিজল গাছের বাকল ও পাতা লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে।
বাংলাদেশ রিভার এন্ড নেচার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, প্রকৃতিতে হিজল গাছের গুরুত্ব অনেক। এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। শুধু মহাসড়ক নয় সরকারি বা বেসরকারি ভাবে যেখানেই বৃক্ষ রোপণে উদ্যােগ নেয়া হবে, সেখানেই নিদিষ্ট একটা অংশে এই হিজল গাছ রোপন করা প্রয়োজন। তাতে প্রকৃতিতে হারানো সৌন্দর্য ফিরে আসবে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) গাজীপুর এর প্রকৌশলী কে এম শরিফুল আলম জানান, সড়ক ও মহাসড়কের সৌন্দর্য বর্দনে বৃক্ষ রোপণ এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষ রোপণে যে উদ্যােগ নিয়েছেন আমরা তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। যেহেতু প্রকৃতি থেকে হিজল গাছ বিলুপ্তির পথে। সমনে এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কাজ করবো।