আখাউড়ায় ৬ বছরে শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে তিতাস নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণ কাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি।

2026-07-08T20:02:41+00:00
2026-07-08T20:02:41+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
আখাউড়ায় ৬ বছরে শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ পিএম   (ভিজিট : ১৩৪)
৬ বছরে শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ
X

৬ বছরে শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে তিতাস নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণ কাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নদীর দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। 

প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কৃষ্ণনগর গ্রামের শ্রমজীবি, ছাত্রছাত্রীসহ ৪/৫ শ মানুষ নৌকায় নদী পারাপার করছেন। সন্ধ্যার পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কৃষ্ণনগরবাসী। সেতুটি নির্মাণ হলে ৪/৫ টি গ্রামের কয়েক হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুবিধা পাবে এলাকাবাসী। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

আখাউড়া উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় কৃষ্ণনগর গ্রামে একটি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২০৮ মিটার এবং প্রস্থ ৬ মিটার। সেতুটি বরিশল গ্রামের সাথে যুক্ত হয়েছে। সেতুর চুক্তিমূল্য ১৯ কোটি ২ লক্ষ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ এর কাজ পায়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা ছিল। কিন্তু ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। গত এক বছর ধরে কাজই বন্ধ আছে। সেতুর মাঝখানে ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি স্প্যান করা বাকী আছে। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক করা হয়নি। তাছাড়া সেতুর উপরের অংশের কিছু কাজ বাকী রয়েছে। 

কৃষ্ণনগরের বৃদ্ধ আব্দুল খালেক বলেন, কৃষ্ণনগর গ্রামে প্রায় এক হাজার মানুষের বসবাস। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। আমরা খুব কষ্টে আছি। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।

স্কুলছাত্রী ফাহমিদা সুলতানা বলেন, আমাদের গ্রামে কোনো স্কুল নেই। এ নদী পার হয়ে পাশের গ্রামের স্কুলে যেতে হয়। নৌকায় নদী পার হয়ে স্কুলে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি নির্মাণ হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।

বৃদ্ধ রুক্কু মিয়া বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হলে হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। এই সেতু দেখার অপেক্ষায় গ্রামের অনেক মুরব্বি মৃত্যুবরণ করেছেন।

আহমেদ হোসেন বলেন, দৈনিক সন্ধ্যা ৭টার পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যাওয়া যায় না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। 

সেতুটি সম্পন্ন হলে কৃষ্ণনগর, ভবানীপুর, বনগজ, বরিশলসহ ৫ থেকে ৬টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবে। 

বরিশল গ্রামের মো. কাউছার মিয়া বলেন, সেতু না থাকায় জমিতে চাষাবাদ, ধান কাটায় ও কৃষিপণ্য পরিবহনে অনেক সমস্যা হয়। সেতুর কাজ দেরি হওয়ায় ঠিকাদারের অবহেলা বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জানতে চাইলে ঠিকাদার খাইরুল হাসান বলেন ভূমি অধিগ্রহণের কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সহসাই কাজ শুরু করবো।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি।বিস্তারিত জেনে সেতুটির ঠিকাদারের সাথে বসবো। কেনো দেরি হলো। কিভাবে সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা যায়।  





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy