নেত্রকোনায় ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার, নেত্রকোনা

সারাবাংলা

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বহুল আলোচিত একটি ধর্ষণ মামলায় ১৩ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি হেলালকে

2026-07-08T20:29:50+00:00
2026-07-08T20:29:50+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নেত্রকোনায় ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
স্টাফ রিপোর্টার, নেত্রকোনা
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম   (ভিজিট : ৪৭)
একজনের যাবজ্জীবন
X

একজনের যাবজ্জীবন

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বহুল আলোচিত একটি ধর্ষণ মামলায় ১৩ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, এক লাখ টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে. গত ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে বারহাট্টা উপজেলার নিজ বসতঘরে স্বামী পরিত্যক্তা ও মানসিকভাবে সরল প্রকৃতির এক নারীকে ধর্ষণ করে আসামি হেলাল। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় (মামলা নং-৩৬৫/২০১৩)। তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী তার দুই মেয়েকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে আসামি ঘরের বাঁশের দরজা খুলে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেয়। ভুক্তভোগীর ছোট মেয়ে ও পাশের ঘরের এক স্বজন ঘটনাস্থল থেকে আসামিকে বের হয়ে যেতে দেখেছেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা এবং বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আসামি ধর্ষণের ঘটনা ও অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হলে প্রমাণিত হয়।

মামলা চলাকালেই অভিযোগ দায়েরের প্রায় এক বছর পর ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিকভাবে মারা যান। এরপর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটি, বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আদালতে পিতৃপরিচয় ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যায়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউর মো. নূরুল কবীর রুবেল জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নিশ্চিত হয়েছে। ফলে শিশুটি হেলালের আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাবার সম্পত্তিসহ অন্যান্য আইনগত অধিকারের দাবিদার হবেন। আদালত ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত  করেন। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু একজন ধর্ষকের শাস্তিই নিশ্চিত হয়নি বরং ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে একটি শিশু তার পিতৃ পরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনগত অধিকার ফিরে পেয়েছে। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy