
X
ভৈরব নদে কচুরিপানা
এক সময়ের প্রমত্তা ভৈরব নদ ছিল মেহেরপুরের মানুষের জীবন জীবিকা, মাছের ভাণ্ডার এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম উৎস। সেই নদেই এখন কচুরিপানার বিশাল আস্তরণ, দূষিত পানি ও শহরের বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বিপর্যস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য| অথচ দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্দশা চললেও দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ভৈরব নদকে বাচাতে ২০১৬ সালে মেহেরপুরে প্রায় ৬০ কিলোমিটার খনন করা হয়েছিলো। কিছুদিন এর সুফল পাওয়া গেলেও এর উৎসহমুখ ভারতের জলঙ্গী নদীতে স্থায়ী ভাবে মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ায় এর স্বাভাবিক প্রবাহের গতি হারিয়েছে বর্তমানে ভৈরব নদের বিস্তীর্ণ অংশ ঘন কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও পানির অস্তিত্বই বোঝা যায় না। শহরের বিভিন্ন ড্রেনের নোংরা পানি সরাসরি নদীতে পড়ছে। ফলে পানির রং কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। নদীর পানি ব্যবহার করে গোসল কিংবা গৃহস্থালির কাজ করতে গিয়ে অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কচুরিপানা ও দূষণের কারণে নদী এখন মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলাতেও মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে অনেক পরিবারকে কয়েল জ্বালিয়ে কিংবা মশারি টানিয়ে ˆদনন্দিন কাজ করতে হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
মেহেরপুর শহরের ঘোষপাড়ার সৌখিন মৎস্যশিকারি ওলিউল্লাহ বলেন, কাজের ফাঁকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতাম| এখন নদীজুড়ে কচুরিপানা থাকায় বড়শি ফেলার জায়গাই নেই। আগে টেংরা, পুঁটি, পাবদাসহ নানা দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন দু-একটি চ্যাং কিংবা শিং মাছ ছাড়া কিছুই মেলে না। নদী পরিষ্কার করলে আবার মাছ ফিরবে।
নদীতে গোসল করতে আসা জাহেদা বেগম বলেন, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে গোসল করতে গিয়ে শরীরজুড়ে চুলকানি ও ঘা হয়েছে। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই এই পানি ব্যবহার করি। সরকার যদি কচুরিপানা পরিষ্কার করে দেয়, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হবে।
বুড়িপোতা ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আহসান হাবিব বলেন, নদীর এই অবস্থার কারণেই মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনের বেলায় কয়েল না জ্বালালে বসে থাকা যায় না। "ঘরে মশা, রাস্তায় মশা দোকানেও মশা।
রাধাকান্তপুর গ্রামের মৎস্যজীবী সাইদুল বলেন, ভৈরবের মাছ বিক্রি করেই আমার সংসার চলতএখন নদীতে কচুরিপানার কারণে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মেহেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম কামাল বলেন, ভৈরব নদকে সচল ও পরিচ্ছন্ন রাখতে বছরে অন্তত দুই থেকে তিনবার কচুরিপানা অপসারণ প্রয়োজন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট না থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সম্মলিত উদ্যোগ ব্যতিত ভৈরব নদকে সচল ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব না।