প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ পিএম (ভিজিট : ৬৬)

X
শেরপুরে পাহাড় ধস
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী উপজেলায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি বড় গাছ উপড়ে সীমান্ত সড়কের ওপর পড়ে যাওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আশপাশে কোনো বসতবাড়ি না থাকায় প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোর রাতে উপজেলার বালিঝুড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসের পেছনে গলাচিপা এলাকায় এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সড়ক থেকে গাছ ও মাটি অপসারণের উদ্যোগ নেয়।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় হঠাৎ করেই পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। এ সময় বড় বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে গেলে সীমান্ত সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানির স্তরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং কিছু স্থানে সাময়িক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও মানুষ পানিবন্দি হলেও পানি নামতে শুরু করায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
বালিঝুড়ি এলাকার বাসিন্দা দিনার মিয়া বলেন, “সারারাত ভারী বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণেই পাহাড় ধসে গাছপালা সড়কের ওপর পড়ে গেছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, তবে সড়কটি বন্ধ থাকায় চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখনও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।”
শ্রীবরদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, “পাহাড় ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বালিঝুড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার মো. সুমন মিয়া বলেন, “পাহাড় ধসের ঘটনায় কয়েকটি বড় গাছ সড়কের ওপর ভেঙে পড়েছে। বন বিভাগের কর্মীরা গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। ফায়ার সার্ভিসকেও অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে পাহাড় ধসের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় চলাচল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।