
X
দোকানে চুরি
নওগাঁর রাণীনগর রাতের আঁধারে ৯৯প্লাস নামক ভ্যারাইটিজ ও গিফট কর্নারের একটি দোকান ঘরের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা এসময় ড্রয়ার ভেঙে দোকানে রাখা স্বর্ণের গহণাসহ একটি ম্যানিব্যাগ নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে দোকানের সিসি ক্যামেরাও খুলে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় শনিবার (১১জুলাই) থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এর আগে শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার আবাদপুকুর বাজারে অবস্থিত মন্ডল মার্কেটের ২য় তলায় ইলিয়াস হোসেনের 'ওয়ান টু নাইনটি নাইন' নামে ওই দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে।
এদিকে একই দিন রাতের আঁধারে খোকন সরদার নামে এক কৃষকের তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার গোনা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামে ওই কৃষকের গোয়ার ঘরের তালা কেটে চোরেরা তার তিনটি গরু নিয়ে যায়। গরু তিনটির আনুমানিক বাজার মূল্য ২লাখ ৫০ হাজার টাকা।
শনিবার সকালে দোকান মালিক কালিগ্রাম কয়াপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে ইলিয়াস হোসেনকে মোবাইল ফোনে খবর দিলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
দোকানে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, দোকানের বিভিন্ন মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শাটারের তালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করেছে। দোকানের মেঝেতে রক্তের দাগও দেখতে পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, চুরির সময় কাচ ভাঙতে গিয়ে চোরদের কেউ আহত হয়ে রক্তাক্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইলিয়াস হোসেন বলেন, শুক্রবার দিন মার্কেট বন্ধ থাকে। আমি সেদিন ১২টার পর দোকান বন্ধ করে চলে আসি। এরপর শনিবারে সকালে গিয়ে দেখি আমার দোকানের তালা ভাঙা। চোরেরা মূলত নগদ টাকা চুরির উদ্দেশ্যে আমার দোকানে এসেছিল। এই জন্য তারা আমার দোকানের ৪-৫টি ড্রয়ার ভেঙেছে। সেখান থেকে কিছু বডিস্প্রে, মানিব্যাগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার তেমন কোনো টাকা চুরি হয়নি। তবে আমার স্ত্রীর ৫আনার স্বর্ণের কানের এক জোড়া দুল ঠিক করার জন্য দোকানের একটি ড্রয়ারে রেখেছিলাম। সেটি বাড়িতে নিয়ে আসতে ভুরে যাই। যার কারণে ড্রয়ার ভেঙে সেটি নিয়ে গেছে। সেই সাথে দোকানের একটি ড্রয়ার থেকে এক হাজার টাকা ও যাওয়ার সময় সিসি ক্যামেরা চুরি করে নিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৭০হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে পুলিশ এসেছিল। তারা আমার দোকানের পাশে থাকা একটি ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা দেখে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা করবে।
অপরদিকে গরু চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন সরদারের স্ত্রী রুপালি বলেন, ভাই আমরা কিছু বুঝতে পারিনি ভাই। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে উঠে দেখি গোয়াল ঘরের তালা কাটা। চোরেরা রাতের কোনো এক সময় গোয়াল ঘরের তালা ভেঙে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে ১টি ষার গরু, ১টি গাভি ও ১টি বোকনা গরু আছে। আমাদের প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনেক কষ্ট করে গরুগুলো লালন পালন করছিলাম। তবে প্রতিকারের আশায় আমরা থানায় যাচ্ছি। জানি না কতোটুকু প্রতিকার পাবো। গরুগুলো উদ্ধার হলে আমাদের খুব উপকার হবে।
জানতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জা জাকারিয়া মন্ডল মুঠোফোনে বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। সেখানে পুলিশ গিয়েছিল। ওটা সম্ভবত চুরির ঘটনা না। কারণ দোকান থেকে তেমন কিছু চুরি হয়নি। তবে রক্তের যেহেতু দাগ আছে, তাই কেউ ঢুকেছিল। তারপরও বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।
আর গরু চুরির বিষয়ে অবগত আছেন জানিয়ে ওসি জাকারিয়া বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আমাকে ফোন করেছিল। তাদেরকে আসতে বলেছি থানায়। তারা আসলে এবিষয়ে মামলা হবে। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।