
X
ছবি: প্রতিনিধি
ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ মারিয়া মনোয়ারা এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাধিক ব্যক্তি। তাদের দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও স্বাধীন যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে এবং অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্যের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম কিংবা প্রভাব খাটানোর মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের পর্যবেক্ষণ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আলোচিত প্রতিবেদনে এমন কোনো চূড়ান্ত অনুসন্ধান বা আইনগত সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
তাদের মতে, ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ একটি নির্ধারিত প্রশাসনিক, কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। নিয়োগকর্তার নথি যাচাই, চাহিদাপত্র পরীক্ষা, অভিবাসনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের কারণে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লাগে। সেই প্রক্রিয়াগত বিলম্বকে ব্যক্তিগত অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
এদিকে, প্রকাশিত প্রতিবেদনটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রুনাই বিএনপির আহ্বায়ক শাহজালাল মাসুদ এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আরজু হোসেন।
শাহজালাল মাসুদ বলেন, ‘পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিশ্চিত না করে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমাদের বিশ্বাস, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু দোসর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি অবশ্যই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।’
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আরজু হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রকাশিত প্রতিবেদনটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু ব্যক্তি ও সমর্থক এই ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে আমরা মনে করি। একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারকে ঘিরে একপাক্ষিক ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশ শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামই ক্ষুণ্ন করতে পারে না, বরং ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
প্রতিবাদকারীদের মতে, ব্রুনাই বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। এ বাজারকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত যেকোনো সংবাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং সব পক্ষের বক্তব্য নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁরা বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি অবশ্যই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রতিবাদকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলোচিত বিষয়টি প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা হোক। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে তথ্যনির্ভর, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।