
X
ছবি: প্রতিনিধি
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পিঠুয়াকান্দি গ্রামের শিশু ছামিরুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ১০৩ দিন অতিবাহিত হলেও প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার ও মামলার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা।
তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় নিহতের পরিবার বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে পিঠুয়াকান্দি গ্রামের যুবক, মুরব্বি, আলেম-ওলামা ও স্থানীয় জনতার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সেলিম, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা আবু বক্কর, মাওলানা সাইকুল ইসলাম, হেলার মিয়া, মুখলেছুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, ১০৩ দিন পার হলেও ছামিরুন হত্যার প্রকৃত অপরাধীরা এখনো ধরা পড়েনি। হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করব। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে বিচার দাবি করব।
তারা আরও বলেন, ছামিরুন একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরিবারটি বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ সুযোগে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
সমাবেশে মামলার বাদীর স্বামী অভিযোগ করে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সম্ভাব্য ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানানো হলেও তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরেক বক্তা অভিযোগ করেন, তিনি এ মামলার একজন সাক্ষী। সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে প্রাণনাশ ও গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাবেশ থেকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেফতার, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এদিকে মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হবিগঞ্জের তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অবনি নামে একজন কারাগারে রয়েছেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের পরিদর্শক মৃণাল কান্তি দেবনাথ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় একজন আটক আছেন। তদন্ত চলমান রয়েছে। উক্ত ঘটনার সঙ্গে যার সম্পৃক্ততা রয়েছে, দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর উপজেলার কালনী-কুশিয়ারা নদী থেকে শিশু ছামিরুনের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পর ২ এপ্রিল নিহতের বড় বোন তৃষা আক্তার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আজমিরীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশ কোন কুলকিনার পায়নি।
এরপর হত্যা মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হলেও ১০৩ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও মূল রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।