
X
ছবি: প্রতিনিধি
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার একর আবাদি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি অসংখ্য মাছের ঘের, পুকুর ও জলাশয় ভেসে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষীরা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। বন্যার পানিতে আমন ধানের বীজতলা, শাক-সবজি, মৌসুমি ফসল ও বিভিন্ন কৃষিজমি ডুবে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করায় তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আজাদ হোসেন জানিয়েছেন, ২১'শ ২০ হেক্টর আউশের ফসলের মাঠ ও ২০ হেক্টর আমনের বীজতলা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ৯১০ হেক্টর সব্জী ক্ষেত ও ৬০ হেক্টর পেঁপে ক্ষেত সৃষ্ট বন্যার পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৭০ কোটি টাকা।
অপরদিকে, প্রবল স্রোতে অসংখ্য পুকুর ও মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙে মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় মৎস্যচাষীদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ তানভীর আহসান বলেন, এবারের বন্যায় এ পযর্ন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২' শ হেক্টর আয়তনের ৮৩৫ টি পুকুর, জলাশয়ের মৎস্য প্রজেক্ট ডুবে এবং পোনা ও অবকাঠামোসহ এ পযর্ন্ত মোট ক্ষতির পরিমান ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন এই দুই দপ্তরের কর্মকর্তা।
অনেক খামারি তাদের বছরের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষীরা জানান, হঠাৎ বন্যার কারণে তারা ফসল ও মাছ রক্ষার তেমন কোনো সুযোগ পাননি। সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে প্রণোদনা প্রদানের আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্যার পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কৃষক ও মৎস্যচাষীদের দ্রুত সহায়তা প্রদান করা না হলে তাদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।