
X
ছবি: প্রতিনিধি
বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির মুরগির খামার গড়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন রাজবাড়ীর কালুখালীর জাহাঙ্গীর হোসেন। শুধু সফল উদ্যোক্তা হওয়াই নয়, এবার তার স্বপ্ন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো।
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বড়বাংলাট গ্রামের মৃত আমীর হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এই খামার। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ প্রজাতির দেড় শতাধিক বিদেশি জাতের মুরগি।
বিভিন্ন জাতের বিরল ও আকর্ষণীয় মুরগি পালনের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, অন্যদিকে গড়ে তুলেছেন এলাকার মানুষের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ। বিভিন্ন জাতের এই মুরগী দেখতে প্রায় প্রতিদিনই ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন করছেন তার খামারে।
জানাযায়, পিতার মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটের কারনে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি জাহাঙ্গীর। পারিবারিক স্বচ্ছলতা আনতে পাড়ি দেন বিদেশে কিন্তু ভাগ্য সহায় হয় নি! দালালের খপ্পরে পরে প্রতারনার শিকার হন। ২০১৬ সালে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের মুরগীর খামার পর্যবেক্ষন করেন এবং দেশে এসে চার জোড়া বিদেশি মুরগী দিয়ে স্বল্প পরিসরে খামার শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জাতের মুরগী সংগ্রহ করতে শুরু করেন।
তার খামারে, উইনডট, কসমো,বেলজিয়াম বিয়ার্ড, সিলভারলেস, সেরেমা,ইওকোহামা,মর্ডান গেম,সুমাত্রা সহ ৪০ জাতের মুরগী রয়েছে। এসব মুরগী জোড়া ১৫ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
এসম্পর্কে খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন- বিদেশ যাওযার জন্য টাকা দিয়ে প্রতারনার শিকার হই। পরে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের মুরগী খামার দেখে উৎসাহিত হই। সেখান থেকে চার জোড়া বিদেশি মুরগী দেশে এনে খামার শুরু করি। সবচেয়ে বেশি বিদেশি জাতের মুরগী সংগ্রহকারী হিসেবে গিনেস বুকে নিজের নাম লেখনোর স্বপ্ন আমার।
বিভিন্ন প্রজাতির মুরগী পাশাপাশি আমার আমার খামাে ময়ূর পাখিও আছে প্রতি জোড়া ময়ুর ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করি এবং বিভিন্ন পার্ক সহ সৌখিন মানুষ তারা অনলাইনের মাধ্যমে আমার থেকে কিনে নেয়।
দর্শনার্থীরা জানান জাহাঙ্গীর এর খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগী পালন দেখে অনেকে আগ্রহ হচ্ছেন এবং বেকার যুবকরা খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
কালুখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম রতন বলেন, জাহাঙ্গীরের খামারে বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি পাখির পাশাপাশি দেশি জাতের হাঁস-মুরগিও রয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে খামারটি নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়।
তিনি বলেন, খামারটিকে আরও লাভজনক ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কোন কোন টিকা প্রয়োগ করতে হবে, সে বিষয়েও খামারিকে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা রয়েছে, তা চাহিদা অনুযায়ী জাহাঙ্গীরের খামারে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।