প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২:৩২ পিএম আপডেট: ১৩.০৭.২০২৬ ৫:৫৯ পিএম (ভিজিট : ২৫)

X
ছবি: প্রতিনিধি
রাউজানে বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে ভেসে গেছে ১২৬টি পুকুর ,জলাশয়ের চাষ করার ছোট বড় মাছ।
এই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভার মধ্যে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পৌর এলাকার সাতটি ওয়ার্ড ও ৬ ইউনিয়নে। মৎস্য বিভাগের হিসাব মতে মোট ১৫ হেক্টর আয়তনের পুকুর জলাশয় থেকে পানিতে ভেসে গেছে ৫৫ মে.টন মাছ। ভেসে গেছে সরকারি হ্যাচারীতে থাকা ৪ লক্ষ হালদার পোনা।
গহিরার এলাকার মৎস্য চাষী কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির পরিচালক মীর মঞ্জুরুল আলম বলেছেন পাহাড় থেকে নেমে আসা বিধ্বংসী পানির স্রোতে চোখের পলকে তার সাড়ে তিন একর জমিতে থাকা চাষের খামার ডুবে প্রায় সাত লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এসময় ভেসে গেছে খামারের সাথে থাকা গুদামের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মাছের খাদ্য।
পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মুকুল দে বলেছেন তার পুকুর ডুবে ভেসে গেছে আড়াই লাখ টাকার মাছ। তিনি বলেন ্এনজিও থেকে লোন নিয়ে তিনি মাছ চাষ করছিলেন। বন্যার পানিতে তার পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে।
এই উপজেলায় সৃষ্ট বন্যায় পল্ট্রি খামারেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ থেকে। তাদের হিসাব অনুসারে উপজেলার বিভিন্নস্থানে থাকা ৩৫০টি মুরগির খামারে ক্ষতির পরিমান ৩১ লাখের উপড়ে। পানিতে খামারের ধসে মুরগি মরে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই বিভাগের উপজেলা কর্মকর্তা ডা.জয়িতা বসু।
রাউজান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেছেন বৃষ্টির পানির সাথে উপজেলার উত্তরপূর্বাংশের পাহাড়ী অঞ্চল থেকে প্রচন্ড স্রোত হয়ে পানি লোকালয় ডুবিয়ে দিয়েছে।
পাহাড় থেকে নেমে আসার পানির চাপে ডাবুয়া খালের বাঁধ ভেঙ্গে ও সর্তা খালে পানি উপচে পড়া পানি লোকালয়ের উপর দিয়ে প্রচন্ড স্রোত বয়ে গেছে। সৃষ্ট বন্যায় ৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বহু পুকুর জলাশয় ডুবে সব মাছ ভেসে গেছে। হালদা নদী থেকে আহরণ করা ডিম থেকে উৎপাদিত ছোট ছোট পোনা মাছও সরকারি হ্যাচারীর পুকুর গুলো থেকে ভেসে গেছে। সব মিলিয়ে সৃষ্ট বন্যায় মৎস্যখাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এক কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে গত রোববার (১২ জুলাই) রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন তিনি উপজেলার বিভিন্নস্থানে দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রান বিতরণ করতে গিয়ে সৃষ্ট বন্যার ক্ষয়ক্ষতি দেখে তিনি বিষ্মৃত হয়েছেন।
তিনি উপজেলার প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে ক্ষয়ক্ষতির যেই প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সড়ক অবকাঠামো ও মৎস্যখাতের। সংসদ সদস্য ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলীকে নিদেশ দিয়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেছেন এখন পানি নামতে শুরু করেছে। তার কার্যালয়ের লোকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএস রাহাতুল ইসলাম বলেছেন তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছেন। ইতিমধ্যে সরকারি ভাবে পাওয়া ৪০ মেট্রিক টন খাদ্য ও নগদ ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করার কাজ তদারকি করছেন।
এই কর্মকর্তার মতে এই উপজেলার সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো ও মৎস্য খাতের।