
X
ছবি: প্রতিনিধি
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টানা বৃষ্টিপাতে এলাকার প্রায় ১০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘরবাড়ি, উঠান ও চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক বাড়ির ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘরে পানি ওঠায় ঠিকমতো রান্নাবান্না করা যাচ্ছে না। অনেক পরিবার চুলা জ্বালাতে পারছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে বের হওয়াই যেন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকছেন। পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি সাপের উপদ্রবও বেড়ে গেছে। বিষধর সাপ ঘরে ঢুকে পড়ার ভয়ে দিন-রাত আতঙ্কে কাটছে এলাকাবাসীর।
এছাড়া নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, কর্মস্থলে যাতায়াত, বাজার করা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করাও অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ এবং ডায়রিয়াসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে ধর্মীয় কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। চারপাশে পানি জমে থাকায় অনেকেই মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারছেন না। বিশেষ করে বয়স্ক মুসল্লি, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য মসজিদে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে তারা একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে বহুবার জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, আবেদন-নিবেদন করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়নি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, "আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই স্থায়ী সমাধান। বছরের পর বছর পানির মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের একটাই দাবি মনোহরদী উপজেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুক।"
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী দিনে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, ধর্মীয় কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।