মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় স্থগিত, গরু জবাই ইস্যুতে স্বস্তি বিজয় সরকারের

বুলেটিন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ঈদুল আজহাসহ যেকোনো দিনে গরু বা বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার রায়ের কার্যকারিতা

2026-07-13T14:52:33+00:00
2026-07-13T14:52:33+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় স্থগিত, গরু জবাই ইস্যুতে স্বস্তি বিজয় সরকারের
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২:৫২ পিএম   (ভিজিট : ৬২)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ঈদুল আজহাসহ যেকোনো দিনে গরু বা বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এক আদেশে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত জানায়, মাদ্রাজ হাইকোর্টের আগের নির্দেশনায় বড় ধরনের ‘সংশোধনের’ প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে ওই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে বড় ধরনের আইনি সাফল্য পেয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্টে জারি করা একটি সরকারি আদেশ কার্যকরের মাধ্যমে তামিলনাড়ু রাজ্যজুড়ে সম্পূর্ণভাবে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে টিভিকে।

হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিজয় সরকারের আইনজীবিরা সর্বোচ্চ আদালতে যুক্তি দেখান যে যেখানে বর্তমান আইনে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে নির্দিষ্ট শ্রেণির গরু জবাই করার বৈধ অনুমতি রয়েছে, সেখানে আইনি বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো বিচারবিভাগীয় নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই টিকতে পারে না।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের যে ডিভিশন বেঞ্চ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তাতে ছিলেন বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণন। তারা ১৯৭৬ সালের ওই পুরনো আদেশটির ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতির কথা বলে এই রায় দিয়েছিলেন। 

রায়ের লেখক বিচারপতি স্বামীনাথন ভারতীয় সংবিধানের আটচল্লিশ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেছিলেন যে গো-সম্পদ ও দুগ্ধজাত গবাদি পশু রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি গণপরিষদের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেছিলেন যে ভারতীয় সভ্যতায় শ্রীকৃষ্ণের আমল থেকেই গরুকে একটি অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধেয় প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়ে আসছে।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতারা দাবি করেন যে তামিলনাড়ুর মুসলিম সম্প্রদায় ঐতিহ্যগতভাবেই স্থানীয় নিয়ম মেনে কুরবানির ঈদে ব্যক্তিগত আঙিনায় বা ধর্মীয় জমায়েতে পশু কোরবানি দিয়ে থাকে এবং অনেক হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক উৎসবে ঐতিহ্যবাহী পশু বলির প্রথা চালু রয়েছে। 

সামাজিক নেতারা যুক্তি দেন যে এই সমস্ত ধর্মীয় আচার কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় সীমাবদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা ওইসব সরকারি কসাইখানার নেই। তামিলনাড়ু সরকারও আদালতকে জানিয়েছে যে রাজ্যে পশু সংরক্ষণ আইন এবং কসাইখানা সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালাগুলো পশু জবাইয়ের স্থান ও শর্তাদি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেও সেখানে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কোনো কথা বলা নেই।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy