ঋণের চাপ ও হয়রানির অভিযোগে কৃষকের আত্মহত্যার চেষ্টা

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের বদলপুর গ্রামের ধনু দাস (৫৫) নামে এক প্রান্তিক কৃষক ঋণের চাপ ও হয়রানির

2026-07-13T15:10:47+00:00
2026-07-13T15:10:47+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
ঋণের চাপ ও হয়রানির অভিযোগে কৃষকের আত্মহত্যার চেষ্টা
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ পিএম   (ভিজিট : ৩৪)
ধনু দাস
X

ধনু দাস

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের বদলপুর গ্রামের ধনু দাস (৫৫) নামে এক প্রান্তিক কৃষক ঋণের চাপ ও হয়রানির অভিযোগে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রেফার করেন।

ধনু দাস জানান, একই এলাকার শুপ্রশন্ন চক্রবর্তীর   মাধ্যমে কামাল মিয়ার নিকট থেকে সুদে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পরে সুদ-আসল মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। গত অগ্রহায়ণ মাসে আবােও টাকার প্রয়োজনে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। তবে বৈশাখ মাসের বন্যায় তার ফসল তলিয়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েন।

তার অভিযোগ, এরপর থেকেই পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকে। কয়েকদিন আগে আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার নগর গ্রামের কামাল মিয়া ও বদলপুর ইউনিয়নের শুপ্রশন্ন চক্রবর্তী তাকে না পেয়ে বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধ মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখান। রোববার রাতে বদলপুর বাজারে তাকে আটকে ঋণের টাকা চেয়ে মারধরও করা হয়। ওই ঘটনার অপমান ও ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে পরিবারের অগোচরে কীটনাশক পান কর আত্মহত্যার ৬েষ্টা করেন।

ধনু দাস আরও অভিযোগ করেন, ঋণ নেওয়ার সময় ধাপে ধাপে শুপ্রশন্ন চক্রবর্তীকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মদ কিনে দিতে হয়েছে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রেফার করা হয়। তার বক্তব্যের ভিডিও এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল মিয়া বলেন, ধনু দাস বাড়ি বন্ধক রেখে তার কাছ থেকে হাঁসের বাচ্চা ও খাদ্য বাকিতে নিয়েছিলেন। বর্তমানে ধনু দাসের নিকট প্রায় আড়াই লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, পাওনা টাকা চাওয়া হয়েছে মাত্র, কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়নি।

ধনু দাসের ছেলে রৌদ্র দাস বলেন, তার বাবা কখনো হাঁসের খামার করেননি। কামাল মিয়ার দাবি অনুযায়ী হাঁসের বাচ্চা ও খাদ্য বাকিতে নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তার বাবা একটি ভিটাবাড়ি কিনেছিলেন। পাশাপাশি চার কিয়ার জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। তবে বৈশাখের বন্যায় সেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।

শুপ্রশন্ন চক্রবর্তী বলেন, তিনি কামাল মিয়ার পক্ষে পাওনা আদায় ও ঋণ বিতরণের কাজ করেন। তার দাবি, ধনু দাস দেড় লাখ টাকা নিয়েছিলেন এবং সময়মতো পরিশোধ না করায় কেবল পাওনা আদায়ের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। মারধর, অপমান, দুর্ব্যবহার ও মদ নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, "ঘটনাটি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই।"






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy