কুষ্টিয়ায় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া, অপসারণের নির্দেশ এলজিইডির

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

সারাবাংলা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের পদ্মনগর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি,

2026-07-14T13:28:24+00:00
2026-07-14T13:28:24+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
কুষ্টিয়ায় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া, অপসারণের নির্দেশ এলজিইডির
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১:২৮ পিএম   (ভিজিট : ৪৫)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের পদ্মনগর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বেসে তিন নম্বর মানের ইটের খোয়া ও মাটি মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রকল্পে এলজিইডির তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। 

জানা যায়, পদ্মনগর ব্রিজ থেকে হাওরের ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭৬৭ মিটার নতুন সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্পটির কাজ পেয়েছে সুমন নামের এক ঠিকাদার।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে ইট দিয়ে বাঁধাই করা হয়েছে এবং মাঝখানে ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে। তবে ব্যবহৃত খোয়ার বড় অংশই ধূসর-লাল রঙের এবং নিম্নমানের বলে মনে হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে খোয়ার সঙ্গে মাটিও মিশে থাকতে দেখা যায়। 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা ঠিকাদারের লোকজনকে বারবার বলেছি, এভাবে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তা করবেন না। দরকার হলে রাস্তা না হোক, কিন্তু দুই নম্বরি কাজ যেন না হয়। তারা আমাদের কথা না শুনেই খোয়া ফেলে চলে গেছে। 

অপর এক বাসিন্দা বলেন, তিন-চার দিন ধরে শুধু খোয়াই ঢালছে। একটু সামনে গেলেই দেখা যাবে খোয়ার মধ্যে শুধু মাটি আর মাটি। মাটি আর খোয়া একসঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। এভাবে রাস্তা কতদিন টিকবে? 

স্থানীয় আরেকজন বলেন, এগুলো ভাটার সবচেয়ে কম মানের ইট। দেখে মনে হচ্ছে পোড়া মাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা ভয়ে বেশি কিছু বলি না, কারণ রাস্তা হওয়াটাই আমাদের কাছে বড় কথা। কিন্তু রাস্তা যদি কয়েক বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তো সরকারি টাকার অপচয় হবে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। তাদের প্রশ্ন, এলজিইডির কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করলে কীভাবে এ ধরনের খোয়া সড়কে ব্যবহার করা হলো? অভিযোগ ওঠার পরও কেন কাজ বন্ধ করা হয়নি?

তবে সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার সুমন বলেন, এখানে দুই নম্বরি করে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কোনো অনিয়ম করছি না। সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ভালো মানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট ব্যবহারের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, উন্নয়নকাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এলজিইডির কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমরা পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীকাল নিম্নমানের খোয়াগুলো অপসারণ করা হবে। এ ধরনের খোয়া ব্যবহার করার সুযোগ নেই। তাকে এ বিষয়ে চিঠিও দেওয়া হবে। এরপরও অনিয়ম করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy