
X
উদ্যোক্তা মোছাঃ শারমিন আক্তার
নাটোরের বনপাড়া উপজেলার মানিকপুর এলাকায় এক নারী উদ্যোক্তার স্বপ্নের পেয়ারা বাগানে দুর্বৃত্তদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে বাগানের ১০ থেকে ১৫টি ফল ও ফুলে ভরা পেয়ারা গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা মোছাঃ শারমিন আক্তার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে নিজের সঞ্চয় এবং স্বামীর সহযোগিতায় কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলা শুরু করেন শারমিন আক্তার। বনপাড়া শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মানিকপুর এলাকায় ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে গড়ে তোলেন একটি পেয়ারা বাগান। দীর্ঘ সময় ধরে শ্রম, অর্থ ও আন্তরিক পরিচর্যায় বাগানটি পরিচর্যা করে আসছিলেন তিনি।
আজ ভোরে বাগানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্থানীয় এক নারী ফোন করে জানান, রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা বাগানের কয়েকটি পেয়ারা গাছ কেটে ফেলেছে। খবর পেয়ে সকাল ছয়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শারমিন আক্তার দেখতে পান, প্রায় ১০ থেকে ১৫টি ফল ও ফুলে ভরা পেয়ারা গাছ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, এই গাছগুলো আমার কাছে শুধু গাছ নয়, প্রতিটি গাছ আমার সন্তানের মতো। দেড় বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের ওপর এটি একটি নির্মম আঘাত।
তিনি আরও বলেন, আজ কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। আগামীতে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সেই আশঙ্কা রয়েছে। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
শারমিন আক্তার জানান, তিনি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ পোষণ করেন না। তবে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো উদ্যোক্তা এ ধরনের হামলার শিকার না হন, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাগানটি এলাকায় একটি সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত ছিল। এমন ঘটনা শুধু একজন উদ্যোক্তার আর্থিক ক্ষতিই নয়, কৃষি খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও হতাশাজনক বার্তা বহন করে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।