
X
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত নয়াপাড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার স্থানীয় কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর শেখার ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কৃষক দম্পতি সলিতা চিসিম ও মিন্টু রেমা নিজেদের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন এ কেন্দ্র, যেখানে কৃষকরা পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি হাতে-কলমে শিখছেন এবং নিজেদের জমিতে তা প্রয়োগ করছেন।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রতিবছর পাহাড়ি ঢল, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, সেচ সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রটিতে বস্তা পদ্ধতি, বেজা পদ্ধতি, চাঙবেড ও মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ, সলতা ও সেলাইন সেচ ব্যবস্থা, কেঁচো কম্পোস্ট, গর্ত কম্পোস্ট, কিচেন জুস এবং জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার নিয়মিত চর্চা করা হচ্ছে।
এ কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো কমিউনিটি বীজ ব্যাংক, যেখানে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা দেশীয় ধান ও মৌসুমি সবজির বীজ সংরক্ষণ, বিনিময় ও পুনরুৎপাদন করছেন। ফলে কৃষকদের বাজারনির্ভরতা কমছে এবং দেশীয় বীজ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
কেন্দ্রটির কার্যক্রমের ফলে বাড়ির আশপাশের পতিত জায়গা এখন উৎপাদনের আওতায় এসেছে। পরিবারগুলো সারা বছর নিরাপদ ও পুষ্টিকর শাকসবজি পাচ্ছে এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আয়ও করছে। বিষমুক্ত সবজির প্রতি স্থানীয় মানুষের আস্থা বাড়ায় অনেক ক্রেতা সরাসরি কেন্দ্র থেকে সবজি সংগ্রহ করছেন।
কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক সলিতা চিসিম ও মিন্টু রেমা জানান, ছোট পরিসরে শুরু করা এ উদ্যোগ বর্তমানে তাদের পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কৃষকেরা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে শিখছেন এবং নিজেদের এলাকায় তা অনুসরণের আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
ইতোমধ্যে নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন এলাকা এবং গোবিন্দপুর, ভাষানকুড়া, কচুগড়া, বনবেড়া ও বগাডুবি গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন। তারা এগ্রোইকোলজি চর্চা, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ এবং পানি সাশ্রয়ী কৃষি প্রযুক্তি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, নয়াপাড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার শুধু একটি শেখার কেন্দ্র নয়; এটি জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কৃষকের স্বনির্ভরতা গড়ে তোলার একটি সফল মডেল। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারিত হলে আরও অনেক কৃষক পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।