প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম (ভিজিট : ৪৮)

X
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৭ সালের মধ্যে লিজের (ভাড়া) মাধ্যমে বহরে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নতুন কেনা বোয়িং উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের আগে হাতে না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়াতে এ সাময়িক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমানের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজের বহর বেড়ে ২৯টিতে উন্নীত হবে। এতে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন গন্তব্যে সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এ সংখ্যা বাড়তে পারে। পুরো লিজ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে।’
বিমানের এই লিজ কর্মসূচি ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের কাছ থেকে স্বল্প সময়ে নতুন উড়োজাহাজ পাওয়া কঠিন হওয়ায় মধ্যবর্তী সময়ের জন্য লিজই এখন সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প।’ এরই মধ্যে ছয় বছরের জন্য ‘ড্রাই লিজে’ (শুধু উড়োজাহাজ ভাড়া) তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিমান। গত ১৫ জুলাই এ বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি উড়োজাহাজ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরবরাহ সম্ভব হলেও তা বিবেচনা করা হবে।
দরপত্র বা প্রস্তাব জমার শেষ সময় আগামী ৯ আগস্ট। ড্রাই লিজের নিয়ম অনুযায়ী, উড়োজাহাজের ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও বীমার দায়িত্ব বিমানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই থাকবে।
আমেরিকান কোম্পানি বোয়িংয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের উড়োজাহাজও বহরে যুক্ত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বোয়িং ও এয়ারবাস দুই ধরনের উড়োজাহাজই প্রয়োজন।’
বিমানের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোর বহরও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২০২৭ সাল থেকে লিজের মাধ্যমে ২১টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ছাড়া এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ারও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর আগ্রাসী সম্প্রসারণের মুখে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে বিমানের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে নতুন বোয়িং বহর হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিমান তার বাজার ধরে রাখতে পারবে এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক রুটে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।