নদী দখল, পরিবেশ দূষণ ও খাদ্য অনিয়মে কালীগঞ্জে দুই দিনে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে দুই দিনে পৃথক দুটি মোবাইল

2026-07-20T16:40:40+00:00
2026-07-20T16:40:40+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
নদী দখল, পরিবেশ দূষণ ও খাদ্য অনিয়মে কালীগঞ্জে দুই দিনে ৪ লাখ টাকা জরিমানা
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম   (ভিজিট : ৩২)
ছবি : প্রতিনিধি
X

ছবি : প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে দুই দিনে পৃথক দুটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। 

অভিযানে পরিবেশ দূষণ, নদীর তীর দখল এবং খাদ্য উৎপাদনে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমার নেতৃত্বে পরিচালিত এসব মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার উত্তরসোম এলাকায় অবস্থিত ইউরিনকো বাংলাদেশ কারখানায় পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দখল করে টায়ার পুড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য সৃষ্টি করছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(গ) ও ১৫(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
এ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হন ইউরিনকো বাংলাদেশের পক্ষে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার সাংনলহড়া গ্রামের হাছান আলীর ছেলে সোহেল রানা। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে কারখানাটি অন্যত্র স্থানান্তর এবং শীতলক্ষ্যা নদীর দখলকৃত অংশ দ্রুত মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, গাজীপুরের রিসার্চ অফিসার মো. মকবুল হোসেন। বেঞ্চ সহকারী ছিলেন আল আমিন।

এর পরদিন সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নাগরভেলা এলাকায় অবস্থিত আইশিন ফুডস কোম্পানি লিমিটেড-এ পরিচালিত পৃথক মোবাইল কোর্টে খাদ্য উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে।
অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত ব্রেডের মেয়াদ ২০ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত উল্লেখ করা হলেও সেই দাবির পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিএসটিআই লাইসেন্সে অনুমোদিত পণ্যের সঙ্গে উৎপাদিত ব্রেডের মিল পাওয়া যায়নি। অনুমোদনের বাইরে ভিন্ন ধরনের ব্রেড উৎপাদন করা হচ্ছিল।

পরিদর্শনের সময় ব্রেডে ব্যবহৃত জ্যাম ফিলিংসের উপাদান সম্পর্কেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। ওই ফিলিংসের কোনো বিএসটিআই অনুমোদনের নথিও উপস্থাপন করা হয়নি।

এ ছাড়া কারখানার অধিকাংশ কাঁচামালের মোড়ক ও ব্যবহারবিধি শুধুমাত্র চীনা ভাষায় লেখা ছিল, যা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর বিধানের পরিপন্থী। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।

এসব অপরাধে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ও ৩৮ ধারায় দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হন প্রতিষ্ঠানের ইন্টারপ্রেটার মো. রিফাত (২৪)।

এ অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়া। বেঞ্চ সহকারী ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্টের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy