প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:২১ এএম (ভিজিট : ১৬৪)

X
ছবি : প্রতিনিধি
গর্ভে অনাগত সন্তান, পাশে দুই শিশু সন্তান আর সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এমন অসহায় সময় পার করছেন ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি অন্তঃসত্ত্বা মাহমুদা। গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে থাকায় তিনি গত ১৯ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
জানা যায়, মাহমুদার সংসারে রয়েছে ৭ বছর ও ১৬ মাস বয়সী দুই কন্যা সন্তান। পরিবারের সবচেয়ে কঠিন সময়ে, গত কোরবানির ঈদের পর থেকেই স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকেই সন্তানদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তার। এরই মধ্যে প্রসবকাল ঘনিয়ে আসায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলেও আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
মাহমুদার এমন অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. ইকবাল হোসাইন হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ভালুকা পৌরসভার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন।
এ সময় ভালুকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহিদা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘চার মাস ধরে আমার স্বামী কোনো যোগাযোগ করেননি। দুই শিশুকে নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন পার করছি।’
তিনি আরও জানান, তার বাবার বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার রাওনা গ্রামে। নয় বছর আগে ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের সোনাখালি গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শুরু থেকেই তাদের সংসারে অভাব-অনটন ছিল। বাবার বাড়ির ওয়ারিশ নিয়ে বিরোধের পর সেখান থেকেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, “মানবিকতা আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। একজন অসহায় মা ও তার অনাগত সন্তানের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, মানবিক বিবেচনায় যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।”