৬দিন পর বিএনপির ২ নেতাসহ ১৩ জনের নামে আদালতে মামলা

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় নির্মমভাবে নিহত অটোরিকশা চালকের পুত্র জুয়েল মিয়া (২০) হত্যার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত খুনিদের

2026-07-21T11:04:05+00:00
2026-07-21T11:04:05+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
৬দিন পর বিএনপির ২ নেতাসহ ১৩ জনের নামে আদালতে মামলা
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৪ এএম   (ভিজিট : ৫১)
ছবি : প্রতিনিধি
X

ছবি : প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় নির্মমভাবে নিহত অটোরিকশা চালকের পুত্র জুয়েল মিয়া (২০) হত্যার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে হত্যা কাণ্ডের ঘটনাস্থ বড়চারা গ্রামের ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 

প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত প্রকৃত খুনীদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপর দিকে মামলায় কিছু নিরপরাধ ব্যক্তিকে জড়ানো হয়েছে দাবী করে এদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবীও জানানো হয়েছে।

রোববার (২০ জুলাই) বাদ আছর উপজেলার আগরপুর-পোড়াদিয়া হাইওয়ে রাস্তার বড়চারা নতুন বাজার রাস্তার ওপর "১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের সর্বস্থরের জনগন' ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বড়চারা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামছুল আলম ওরুফে এলেম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মো. ইমরান খান ও ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিনের ভাই শাহ্ আলমের নেতৃত্বে বড়চারা ও আশেপাশের এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। 

বিক্ষোভ মিছিলে স্লোগান তোলে "সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুটিয়ে দাও, খুনিদের ঠিকানা বড়চারা হবেনা, জুয়েল হত্যার বিচার চাই-বিচার চাই, নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি চাই-মুক্তি চাই।"

মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামছুল আলম উরুফে এলেম জুয়েল হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবী করে বলেন, দুইদিন আগে কিশোরগঞ্জ আদালত থেকে জুয়েল হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার নকল তুলে জানতে পারেন এ মামলায় তাকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী ছেলে তৌকিকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। 

ভাতিজা ছায়িম মিয়াকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে এবং নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. সানিকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৯ নং আসামি সোহান মিয়া ঢাকায় ছিলেন এমন দাবী করেন। তারা কেউ জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত নয় দাবী করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ মামলা থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবী জানান তিনি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছা সেবক বিষয়ক সম্পাদক মো. নাদিরুজ্জামান খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহুল হক খোকা, বিএনপি নেতা মো. সেলিম মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সাফি উদ্দিন ও ইউনিয়ন তরুণ দলের সাবেক সভাপতি মো. নাঈম আনোয়ার প্রমূখ।

এসময় বক্তারা "জুয়েলকে যারা খুন করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবি করে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

এর আগেরদিন শনিবার বাদ আছর একই স্থানে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদে ও বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মানববন্ধনে বক্তারা জুয়েল হত্যার ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার দাবী জানান।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেলে জুয়েল মিয়া তার এক বন্ধুর ডিমের গাড়িতে চড়ে জাফরাবাদ মোড় থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে আসছিলেন। গাড়িটি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের ১০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত গাড়িটির গতি রোধ করে তারা জুয়েলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর করে খুন করে।

এলাকাবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে নিহত জুয়েল সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ওই বিরোধের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে দফায় দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। 

এরপরও কুলিয়ারচর থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করায় নিহতের পিতা মো. কুদ্দুস মিয়া বাদী হয়ে গত ১৬ জুলাই উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা গ্রামের মৃত ছাবুদ আলীর ছেলে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন (৫৫) ও তার ছেলে মো. সানি (২২), মৃত ইসমাইল মাষ্টারের ছেলে উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামছুল আলম উরুফে এলেম (৫৫), এলেমের ছেলে মো. তৌকি মিয়া (২০) ও এলেমের ভাই মো. আসাদ উল্লাহ'র ছেলে মো. ছায়িম মিয়া (২০), আনসার বিডিপি কমান্ডার মো. জামান এর ছেলে মো. আসিফ মিয়া (২২), মো. হুমায়ুনের ছেলে মো. রনি (২১), মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. সাকিব মিয়া (২১), মো. জামাল মিয়ার ছেলে মো. সালমান মিয়া (২২), মো. ইব্রাহিমের ছেলে মো. সোহান মিয়া (২১), মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. জিদনী মিয়া (২২), ইছু মিয়ার ছেলে মো. টুকুল মিয়া (২২) ও সবুজ মিয়ার ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৩) সহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের নামে আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নং- ২ কিশোরগঞ্জে একটি মোকদ্দমা দাখিল করেন।

বাদী কুদ্দুস মিয়ার দাবি, রহস্যজনক কারণে পুলিশ মামলা না নেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

অন্যদিকে, সাধারণ গ্রামবাসীর অভিযোগ-একটি প্রভাবশালী মহল আসল অপরাধীদের আড়াল করতে এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যেকোনো প্রভাব ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘাতকদের গ্রেফতার করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলায়-এখন এটিই কুলিয়ারচরের সর্বস্তরের মানুষের একমাত্র দাবি।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy