তেলাপোকার দখলে দিল্লির রাজপথ, টালমাটাল মোদি সরকার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি এখন ভারতের একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমান শাসক দল বিজেপি

2026-07-21T17:17:08+00:00
2026-07-21T17:17:08+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
তেলাপোকার দখলে দিল্লির রাজপথ, টালমাটাল মোদি সরকার!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৭ পিএম   (ভিজিট : ৫০)
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যেও
X

আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যেও

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি এখন ভারতের একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমান শাসক দল বিজেপি নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে। এমনকি এই আন্দোলন কোন দিকে গিয়ে শেষ হবে, তা এখনও অজানা। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে ভারতের কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 

আন্দোলনরত এই তরুণদের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের ওপর পুলিশ চড়াও হওয়ার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবার হাজারো মানুষ সমবেত হয়েছেন। তবে শুধু দিল্লিতে এই আন্দোলন এখন আর সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেরালা রাজ্য, যেখানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান করে নিরাপত্তা বাহিনী। 

অন্যদিকে, এই আন্দোলনে যোগ দিতে রাজস্থান থেকে মানুষ এসে দিল্লিতে জড়ো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই দাবি করে আন্দোলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ করছে বলে অভিযোগও করেছেন।

এই প্রতিবাদে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী অংশ নেন। তারা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করেন।

মধ্যাঞ্চলীয় দিল্লি ব্যাপক সহিংসতার সাক্ষী হয়, যেখানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করলে অন্তত ৬০ জন আন্দোলনকারী আহত হন। পুলিশ মূল প্রতিবাদস্থলের মঞ্চ এবং অস্থায়ী তাঁবুগুলোও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ১১৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের বিষয়ে পুলিশ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিরোধী দলগুলো এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

সিজেপি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে ওঠে। তিনি সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের দিকে ঝুঁকে পড়া বেকার তরুণদের বোঝাতে কাকরোচ (তেলাপোকা) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এই মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি কেবল ভুয়া ও বানোয়াট ডিগ্রিধারিদের উদ্দেশ্য কর এটি বলেছিলেন।

সোমবারের বিশাল জনসমাগম প্রমাণ করে যে, সিজেপি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল না হওয়া সত্ত্বেও লাখ লাখ মানুষকে রাজপথে নামিয়ে আনার মতো একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবাদকারীরা গত এক মাস ধরে দিল্লির ৩০০ বছরের পুরনো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘জন্তর মন্তরে’ অবস্থান করছেন। ২৮ জুন অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক তাদের সাথে যোগ দিয়ে দাবির সমর্থনে অননির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে এটি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। শনিবার পুলিশ তাকে জোরপূর্বক প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে তিনি এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আন্দোলনটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোদীর বিরুদ্ধে সর্বজনীন অসন্তোষ প্রকাশের অন্যতম স্পষ্ট ও দৃশ্যমান প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ওয়াংচুক এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বেশিরভাগ প্রধান বিরোধী দল, কৃষক নেতা, অ্যাক্টিভিস্ট এবং বলিউড তারকা সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সমর্থন পেয়েছেন।

বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক ছিল এবং তিনি মোদীকে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে যুব-বিরোধী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy