খাল খননে কমেছে জলাবদ্ধতা, প্রাণ ফিরেছে নন্দীগ্রামের কৃষিতে

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় কৃষকদের সুবিধা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাস্তবায়িত খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সুফল মিলতে শুরু করেছে।

2026-07-21T19:10:03+00:00
2026-07-21T19:10:03+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
খাল খননে কমেছে জলাবদ্ধতা, প্রাণ ফিরেছে নন্দীগ্রামের কৃষিতে
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:১০ পিএম   (ভিজিট : ৭৬)
প্রাণ ফিরেছে নন্দীগ্রামের কৃষিতে
X

প্রাণ ফিরেছে নন্দীগ্রামের কৃষিতে

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় কৃষকদের সুবিধা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাস্তবায়িত খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সুফল মিলতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যার অবসান ঘটিয়ে বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় হাজার হাজার একর কৃষিজমি এখন চাষাবাদের উপযোগী হয়ে উঠেছে। ফলে আমন মৌসুমকে সামনে রেখে জমি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

গত ২ মে উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের সিধইল গ্রামে ২ কিলোমিটার এবং ৩নং ভাটরা ইউনিয়নের শালুকা এলাকায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগে বর্ষার সময় সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে পানি জমে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়তেন। অনেক ক্ষেতেই আমন চাষ বিলম্বিত হতো, এমনকি জমি অনাবাদি থেকেও যেত। কিন্তু খাল পুনঃখননের পর পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এখন কৃষকরা নির্বিঘ্নে জমি প্রস্তুত করছেন।

বুড়ইল ইউনিয়নের দোহার এলাকার কৃষক সাব্বির বলেন, গত বছর বর্ষায় আমাদের জমিগুলো দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে ছিল। এবার খাল খননের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে গেছে। এখন সময়মতো হালচাষ করতে পারছি, আমন আবাদও ভালো হবে বলে আশা করছি।

একই চিত্র দেখা গেছে ৩নং ভাটরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। কৃষক জামিল হোসেন জানান, আগে বর্ষায় বাড়িঘর ও উঠান পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যেত। এবার খাল খননের কারণে পানি সরাসরি খাল দিয়ে নেমে যাচ্ছে। বাড়িতেও পানি ওঠেনি, জমিতেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি।

আরেক কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, খালে এখন স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। শুধু কৃষিকাজ নয়, খাল থেকে মাছও ধরতে পারছি। এতে পরিবারের খাদ্য চাহিদাও কিছুটা পূরণ হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শালুকা খালের ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং সিধইল খালের ২ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খালগুলোর দুই পাশ পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরদার ফজলুল করিম বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে শুধু পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দূর হয়নি, কৃষকরা সময়মতো চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতিও কমে আসবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হলে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, শালুকা ও সিধইল—দুটি খালের পুনঃখনন কাজ  সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকারও বেশি সরকারি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে প্রায় ১৪শ' টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে খালের পাড়ও টেকসই থাকবে।

তিনি জানান, খালগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। এতে কৃষকরা বছরজুড়ে কৃষিকাজে আরও বেশি লাভবান হবেন এবং এলাকার সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy