প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম (ভিজিট : ৪০)

X
৫ বছরের কারাদণ্ড
অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সিরাজগঞ্জের এক সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ইসলামকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই মামলায় তাঁর বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক ও স্ত্রী ডলি বেগমকেও ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ মো. সালাউদ্দিন খাঁ এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চরদমদমা গ্রামের শহিদুল ইসলাম প্রামাণিকের ছেলে। তিনি কামারখন্দ উপজেলা খাদ্য গুদামের সাবেক সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক। বর্তমানে তিনি কাজীপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মলয় কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর পাবনা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শহীদুল আলম সরকার বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের পর আদালত মনিরুল ইসলাম, তাঁর বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক ও স্ত্রী ডলি বেগমকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের কেউ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি ও কামারখন্দ উপজেলা খাদ্য গুদামে দায়িত্ব পালনকালে মনিরুল ইসলাম জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৬০ লাখ টাকা ওয়ান ব্যাংক সিরাজগঞ্জ শাখার একটি হিসাবে স্ত্রীর নামে এফডিআর করেন। একই সময়ে তাঁর বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিকের নিজ নামীয় জায়গায় ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণে ওই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়।
মামলায় বলা হয়, মনিরুল ইসলামের অবৈধ আয় বৈধ করার কাজে তাঁর বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক ও স্ত্রী ডলি বেগম সহযোগিতা করেন। আদালত এ অপরাধকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে দণ্ডাদেশ দেন।