আমতলীতে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বরগুনায় স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়া রানী (৩৫) নামের এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী অজয়

2026-07-24T14:04:01+00:00
2026-07-24T14:04:01+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
আমতলীতে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ২:০৪ পিএম   (ভিজিট : ৬১)
ছবি : প্রতিনিধি
X

ছবি : প্রতিনিধি

বরগুনায় স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়া রানী (৩৫) নামের এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ হাসপাতালে রেখে স্বামী ও তাঁর স্বজনেরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। 

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে অজয় চন্দ্রকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অজয় চন্দ্রের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে আমতলী উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে গাজীপুর বন্দরের বিমল ব্যাপারীর মেয়ে সুপ্রিয়া রানীর সঙ্গে হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় সুপ্রিয়াকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ তাঁর মা দেপালী রানীর।

দেপালী রানীর অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে অজয় চন্দ্র তাঁর ছোট ভাই উত্তর হাওলাদারের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়ার সঙ্গে তাঁর স্বামীর প্রায়ই ঝগড়া ও বিরোধ হতো। এর জেরে কয়েকবার সুপ্রিয়াকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আটটার দিকে পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে অজয় চন্দ্র তাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে সুপ্রিয়া মুঠোফোনে তাঁর মাকে মারধরের কথা জানান। এর কিছুক্ষণ পর অজয় চন্দ্র তাঁর শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন। 

পরে স্বামী ও স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর পেয়ে অজয় চন্দ্র ও তাঁর স্বজনেরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের মা দেপালী রানী বাদী হয়ে অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন। শুক্রবার দুপুরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিহত সুপ্রিয়া রানীর ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও ১১ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

নিহতের মেয়ে মিথিলা বলেন, ‘বাবার পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় বাবা মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

নিহতের মা দেপালী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার জামাতা অজয় চন্দ্র হাওলাদার তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার কঠোর শাস্তি চাই।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, ‘সুপ্রিয়াকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। রমা রানী নামের একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy