
X
সংগৃহীত ছবি
শিক্ষার্থীর বান্ধবীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
ব্যক্তিগত বিরোধ ও এক শিক্ষার্থীর বান্ধবীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জেরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত দুই দফার এ সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে আহত ৯ জন এবং শুক্রবার দুপুরে আহত আরও ৪ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের লেভেল-১, সেমিস্টার-২ এর দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে আশরাফুল হক হলের ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী শহীদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও সতর্ক করে আসেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ফোনে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। রাত সাড়ে তিনটার দিকে শহীদ শামসুল হক হলের ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে আশরাফুল হক হলে যান। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি হলের জানালার কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও লাইট ভাঙচুর করা হয়। এতে ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
খবর পেয়ে রাত ৪টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং হল প্রভোস্টদের ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে শুক্রবার দুপুরে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় আশরাফুল হক হলের এক শিক্ষার্থীকে শহীদ শামসুল হক হলের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন। এর জেরে আড়াইটার দিকে দুই হলের শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আরও ৪ জন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, মধ্যরাতে সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করি। কিন্তু শুক্রবার জুমার নামাজের পর আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামান্য একটি বিষয় নিয়ে এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। খুব দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
এদিকে প্রক্টর আরও জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।