
X
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উল্টোরথ যাত্রা
বিপুল উৎসাহ আর আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি থেকে উল্টো রথের র্যালীটি বের হয়। পরে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে আবারো শহরের মধ্যপাড়া ইস্কন মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে উল্টো রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকে কয়েক হাজার ভক্ত পুণ্যার্থী শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির আনন্দময়ী কালীবাড়িতে এসে জড়ো হয়। পরে আনন্দময়ী কালীবাড়িতে উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
এসময় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি সহ যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে উল্টোরথ যাত্রার র্যালীটি শহরের ট্যাংকের পাড়, কুমারশীল মোড়, পুরাতন কোট রোড, মঠের গোড়া, হয়ে টিএ রোডের উপর দিয়ে কালীবাড়ী মোড় হয়ে বণিকপাড়া, সরকার পাড়া এবং দক্ষিণ পৈরতলা হয়ে মধ্যপাড়া ইস্কন মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে শহরের কালভৈরব মন্দির থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অপর একটি উল্টো রথযাত্রা র্যালী বের হয়। র্যালীটি শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে আবারো কালভৈরব মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সপ্তাহব্যাপী রথযাত্রা অনুষ্ঠানিকতা।
পুরোহিত অচিন্ত্য চক্রবর্তী আর জনান, গর্ভ গৃহ মন্দির থেকে সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী জগন্নাথদেব বলরাম ও শুভদ্রা দেবী মাসির বাড়ি রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচার বাড়ির মন্দিরে যান সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থান করবেন। পরে আবারো শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, বলরাম, সুভদ্রা দেবী নিজ গৃহ মন্দিরে ফিরে যাবেন। এর মধ্যদিয়ে ভক্তদের জন্য রেখে যাবেন আশীর্বাদ।
সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী রথের দড়িতে স্পর্শ করলে জানা-অজানা পাপ-তাপ রোগ শোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেই বিশ্বাস থেকে সম্প্রদায়ের প্রতিটি ভক্ত রথের দড়ি টেনে জগন্নাথ দেব,বলরাম, সুভদ্রা দেবীকে মাসির বাড়িতে নিয়ে আসেন পাশাপাশি উল্টো রথের মাধ্যমে আবরে গৃহে নিয়ে যাবেন।
ইসকন মন্দিরের অন্যতম ভক্ত রাকেশ দাস জানান, এই রথযাত্রায় অংশ করলে, জন্ম জন্মান্তরের সকল পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রভু জগন্নাথ অত্যন্ত কৃপাময় দয়ালু। তিনি ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ করে থাকেন। এ জন্যই মূলত রথযাত্রা হয়ে থাকে।