
X
ফসলি জমির উপর ময়লার স্তুপ
◑ ফসলি জমিতে সিরিঞ্জ, সূঁচ ও হাসপাতালের বর্জ্য; আতঙ্কে কৃষক, ব্যবহার অনুপযোগী ঝিরির পানি।
◑ পৌরসভার অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন ঘিরে পরিবেশ বিপর্যয়; ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য।
◑ বর্জ্যের দুর্গন্ধে দুর্বিষহ জনজীবন; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও পড়েছে দূষণের প্রভাব।
◑ টানা বর্ষণে পাহাড় বেয়ে নেমে এসেছে বর্জ্য; কৃষিজমি ও পানির উৎস রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা চান স্থানীয়রা।
◑ ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি, দূষিত হচ্ছে ঝিরি; তদন্তের কথা বলছে পৌর প্রশাসন।
বান্দরবানে পৌরসভার অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য এখন শুধু ময়লার স্তূপেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্ষার পানির সঙ্গে সেই বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে কৃষিজমি, ঝিরি ও নদীতে। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চললেও এবার ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। বান্দরবান সদর উপজেলার লেমুঝিড়ির ঘোনা পাড়া। একসময় যেখানে ছিল সবুজ ফসলের মাঠ, সেখানে এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্লাস্টিক, হাসপাতালের বর্জ্য, ভাঙা কাঁচ, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব বর্জ্য নেমে এসেছে নিচের কৃষিজমি ও ঝিরিতে।
ভুক্তভোগী কৃষক সুজাতা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, স্থানীয়দের দাবি, চলতি মাসের টানা ভারী বর্ষণে পৌরসভার অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ একর কৃষিজমিতে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জমিতে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন কৃষকরা। কারণ মাটির নিচেই মিলছে সিরিঞ্জের সূঁচ, ভাঙা কাঁচ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা মোমিনা বেগম বলেন, যে ঝিরির পানি একসময় ছিল এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা, এখন সেই পানিতেই ভাসছে প্লাস্টিক, সালাইনের ব্যাগ ও মেডিকেল বর্জ্য। দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে পানিটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
জ্ঞানদর্শন-বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে বিহারাধ্যক্ষ জ্ঞানদ্বীপ ভিক্ষু বলেন, বর্জ্যের প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও। বিহারের পাশের পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলার কারণে বর্ষা এলেই দুর্গন্ধ ও দূষণে ধ্যান-ভাবনা এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বান্দরবানবাসীর দাবি, একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক।
তবে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষিজমিতে বর্জ্য ফেলার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমি থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং কৃষিজমি পুনরায় চাষযোগ্য করার উপায় খুঁজে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার অভিযোগ করলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কৃষি, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।