রায়পুরে স্বাগত-বিদায় জানাচ্ছে ময়লার ভাগাড়!

রায়পুর (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

দেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার লক্ষ্মীপুর রায়পুরের। সেই পৌরসভার ময়লার স্তূপ লক্ষ্মীপুর-রায়পুর মহাসড়কের পাশে। ওই সড়কের বর্ডার বাজারের উত্তর

2026-07-25T17:27:47+00:00
2026-07-25T17:27:47+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
রায়পুরে স্বাগত-বিদায় জানাচ্ছে ময়লার ভাগাড়!
রায়পুর (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম   (ভিজিট : ১০২)
ময়লার ভাগাড়
X

ময়লার ভাগাড়

দেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার লক্ষ্মীপুর রায়পুরের। সেই পৌরসভার ময়লার স্তূপ লক্ষ্মীপুর-রায়পুর মহাসড়কের পাশে। ওই সড়কের বর্ডার বাজারের উত্তর অংশে দুই জেলার সীমানায় একটি তোরণ আছে। ফরিদগঞ্জ থেকে রায়পুরে ঢুকতে তোরণে যে লেখা চোখে পড়বে তা হলো- ‘স্বাগত রায়পুর উপজেলা’। আবার রায়পুর থেকে ফরিদগঞ্জের দিকে যাবার ‘ধন্যবাদ রায়পুর উপজেলা’ লেখা চোখে পড়বে। কিন্তু এ ‘ধন্যবাদ এবং স্বাগত’ জানানো হচ্ছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় দিয়ে। স্বাগত তোরণের নিচে বর্জ্যরে স্তূপ। 

স্থানীয় লোজন ও সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে রায়পুর পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ডের ও হাটবাজারের ময়লা আবর্জনা প্রতিদিন ভ্যানে করে এখানে ফেলা হচ্ছে। ময়লার কারণে ভরাট হয়ে গেছে সড়কের পাশে থাকা জেলা পরিষদের জলাশয়। দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে নাক চেপে পথ অতিক্রম করতে বাধ্য হচ্ছে সড়কে পথচারী-শিক্ষার্থী ও যানবাহনের হাজারো যাত্রীকে চলাচল করছে দুর্গন্ধ নিয়ে। মাঝে মাঝে এসব ময়লা-আবর্জনা নষ্ট করার জন্য আগুন জ্বালানো হয়। তখন অস্বাস্থ্যকর কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। 

বিশেষ করে গরম ও বৃষ্টির সময়ে দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়, ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি হয়ে আসলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয় না উপজেলা প্রশাসন। ওই স্থানটিকে দূষিত করার পেছনে রায়পুর পৌরসভাকে দায়ি করছে স্থানীয় লোকজন। তবে পৌরসভা বলছে- বর্জ্য রাখার জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই স্থানে বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহআলন বলেন, পৌরসভার বর্জ্য-ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে আমরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছি। অভিযোগ দেওয়ার পরও পৌরসভা আমাদের কোনো কথা শুনে না। তাদের খেয়াল-খুশিমতো মহাসড়কের আশপাশ ও জলাশয়ে আবর্জনা ফেলার কারণে স্থানীয়দের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই ময়লার কারণে একটি জেলাকে স্বাগত এবং আরেকটি জেলাকে বিদায় জানানো হয় এখান থেকে। আরেক বাসিন্দা সুজন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এখানে ময়লার স্তুপ দেওয়ার কারণে নিচু জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। পাশেই একটি খাল রয়েছে। এখানকার ময়লা-আর্বজনা, বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য খাল হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এখানকার পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দূরদূরান্তের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

রিপন নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, বর্জ্যের দুর্গন্ধে এ স্থান দিয়ে হাটা যায় না। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার চতুর্মুুখী ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে দূষিত হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ। 

সালমা আক্তার নামের এক স্কুল ছাত্রী বলেন, প্রতিনিয়ত আমি গাড়িতে করে এ স্থান দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করি। এখান দিয়ে যেতে চরম দুর্গন্ধ অনুভব হয়। নাক চেপে ধরে রাখতে হয়।
 
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মাসউদ মোরশেদ বলেন, আমাদের কোনো ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়নি। এটা নির্মাণের জন্য পৌরসভার মালিকানাধীন জমি প্রয়োজন। আমাদের সেটা নেই। ৬-৭ বছর ধরে এভাবেই সড়কের আশপাশে ও জলাশয়ে বাধ্য হয়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পৌর সাবেক মেয়রগণ এ ব্যবস্থা করে গেছেন। আমাদের বিকল্প কোনো উপায় এখনো তৈরি না থাকায় ১০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলো সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy