
X
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুরুল আবছার বাদশা
লাগামহীন ভারী বৃষ্টিপাত ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষক নুরুল আবছার বাদশার পেঁপে বাগানের ৯০ শতাংশ গাছ মারা গেছে। এতে ওই কৃষকের কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। বিক্রির ভর মৌসুমে এসে পেঁপে বাগানের এমন ভয়ানক ক্ষতির শিকার হয়ে আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরচর এলাকার কৃষক নুরুল আবছার বাদশা। পুঁজি হারিয়ে এখন নির্বাক ভুক্তভোগী কৃষক। ভেবে পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্ত পেঁপে বাগান নিয়ে এখন তিনি কী করবেন।
ভুক্তভোগী কৃষক নুরুল আবছার বাদশা বলেন, আটমাস আগে মাতামুহুরী নদীর তীরের জনপদ চকরিয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মৌলভীরচর বিলে নিজের জমিতে বিপুল টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে ১৩ শত চারা রোপণ করে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন পেঁপে বাগান।
ইতোমধ্যে বাগানের বেশিরভাগ গাছে থোকায় থোকায় ফলনও এসেছিলো। একমাস পর বাগানের পেঁপে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি।
এরই মধ্যে গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত পরবর্তী পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পানি কৃষক বাদশার পেঁপে বাগানের ভয়ানক ক্ষতি করে দিয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে বাগানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁপে গাছ মারা গেছে।
কৃষক নুরুল আবছার বাদশা বলেন, দুই কানি জমিতে ১৩ শত চারা রোপণ করে পেঁপে বাগানের পাশাপাশি ২ কানি জমিতে বেগুন, ২ কানি জমিতে শসা, আড়াই কানি জমিতে তিত করলা, ১.৫ কানি জমিতে কলা গাছ চাষ করি। কিন্তু সম্প্রতি বয়ে যাওয়া বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে আমার বাগানের সব ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমার কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুরুল আবছার বাদশা জানান, পেঁপে বাগান এবং রকমারি সবজি চাষে চারা রোপণের ৮ মাসের মাথায় বন্যার তান্ডবে আমি সব হারিয়ে নি:শ্ব হয়ে গেছি। মাত্র এক সপ্তাহ ব্যবধানে আমার স্বপ্ন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, চকরিয়া উপজেলার মধ্যে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছি আমি। এ অবস্থায় আমি পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে সরকারের প্রনোদনা সহযোগিতা চাই। সেজন্য চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাইব্রিড টপলেডি, গ্রীনলেডি, থাইসহ নানা জাতের পেঁপে চাষ করেছেন।
প্রতি কেজি পাকা পেঁপে পাইকারি বাজারে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি গাছে ৩ থেকে ৪শ’ টাকা খরচ হলেও ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রির কথা ছিল বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
জানতে চাইলে চকরিয়া পৌরসভা এরিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আবুল বশর বলেন, পৌরসভার মৌলভীরচর এলাকার কৃষক নুরুল আবছার বাদশার পেঁপে বাগানের ক্ষতিসাধনের বিষয়টি আমাদের জরিপে রেকর্ড করা হয়েছে। পেঁপে বাগানের পাশাপাশি তিনি রকমারি সবজি চাষেও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, পুরো পৌরসভার কৃষি সেক্টরের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে উপজেলা কৃষি বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, টানা বৃষ্টিতে চকরিয়ার ভয়াবহ বন্যায় কৃষকের বেশি ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায় থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কৃষি দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অবশ্য এরইমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আশাকরি সরকারি প্রনোদনা সহায়তা আসলেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বর্গাচাষী সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন পুতু জানিয়েছেন, বন্যার তান্ডবে পুরো চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষকের ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অথচ চলতি মৌসুমে বেশিরভাগ এলাকায় পেঁপে ও তিত করলা, বেগুন, শসা চাষে বাম্পার ফলন এসেছে, পাশাপাশি দামও ভাল পেলেও ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকেরা দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন। তিনি কৃষকদের ক্ষতি লাগবে সহসা সরকারি প্রনোদনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।