
X
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী
দেশের খালগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল খননের কাজ করছে। খাল খনন শেষ হলেই নদী খনন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে ১০ হাজার গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করতে হবে। বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, মা-বাবা যেমন সন্তানকে লালন-পালন করেন, তেমনি একটি গাছ লাগিয়ে তারও পরিচর্যা করতে হবে। বৃক্ষ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, ফল, জ্বালানি কাঠ ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের কাঁচামালও সরবরাহ করে। তাই বসতবাড়ির আশপাশে, পতিত জমিতে, নদীর তীরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বেশি বেশি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগাতে হবে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের খালগুলোর যথাযথ খনন হয়নি। ফলে অনেক খাল নাব্যতা হারিয়েছে। এসব খাল খনন করে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। খাল সচল হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষক উপকৃত হবেন। খাল খনন শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে নদী খননের কাজও শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে। পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল এবং গ্রিন ভিউ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের সভাপতি মো. আশরাফুল আলম খান।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাগুরা জেলা পুলিশ ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ করবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।