সৈয়দপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রিসহ পল্লী চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক

আবু-বিন-আজাদ, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসক ও গ্রাম্য ডাক্তারদের রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক

2026-07-26T14:09:35+00:00
2026-07-26T14:09:35+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
সৈয়দপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রিসহ পল্লী চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক
আবু-বিন-আজাদ, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ২:০৯ পিএম   (ভিজিট : ৪৭)
ছবি : প্রতিনিধি
X

ছবি : প্রতিনিধি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসক ও গ্রাম্য ডাক্তারদের রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক লেখার কারণে রোগীরা ‘সুপারবাগ’ নামক সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সেই সঙ্গে চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের হওয়ার পরই রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা। তাদের এমন দৌরাত্ম্যে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এলাকার রোগী ও তাদের স্বজনরা।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা জোর-জবরদস্তি করেই এ কাজ করেন। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ওষুধ লিখিয়ে নিতে চিকিৎসকদের বিভিন্ন অফার ও উপহারও দিয়ে থাকেন। এ কারণে মানহীন ওষুধ প্রেসক্রাইব করার অভিযোগও কম নয়।

প্রেসক্রিপশনে রোগীর, বিশেষ করে নারী রোগীর, গোপনীয় তথ্যসহ নানা নির্দেশনা থাকে। অনেক সময় পারিবারিক তথ্যও উল্লেখ থাকে। কিন্তু কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির চ্যাটিং গ্রুপসহ বিভিন্ন স্থানে আপলোড করা হয়।

যদিও সৈয়দপুরে কর্মরত পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার মোখলেছুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে এমন পরিস্থিতি থাকলেও এখন আর তা নেই বললেই চলে। তিনি জানান, কেউ এ ধরনের কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অপরদিকে, পল্লী চিকিৎসক ও গ্রাম্য ডাক্তারদের রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লেখার সীমাবদ্ধতা থাকলেও তারা তা মানছেন না। এমনকি তারা রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক লিখে দিচ্ছেন। তাদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবন করে গ্রামের সাধারণ রোগীরা নানা ধরনের জটিল সমস্যাসহ সুপারবাগ সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, একজন রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা অত্যন্ত অনৈতিক এবং এটি অবশ্যই অপরাধ। আমি আমার চেম্বারে এ কাজ করতে দিই না। কোনো মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভও ছবি তুলতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, কোনো রিপ্রেজেন্টেটিভ এ কাজ করলে তাদের সংগঠন থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পল্লী চিকিৎসক ও গ্রাম্য ডাক্তারদের উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের এ ধরনের ওষুধ রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লেখার কোনো এখতিয়ার নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওইসব ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে সংক্রমিত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের চিকিৎসা করাও অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অথচ প্রায়ই এ ধরনের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। 

ফলে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারে অনেকেই সুপারবাগ সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জনের নজরদারির আওতায় আনা উচিত।

এ বিষয়ে নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সৈয়দপুরে এ ধরনের এক-দুটি ঘটনার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। পল্লী চিকিৎসক বা গ্রাম্য ডাক্তারদের ওষুধ লেখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। 

তারা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক লিখতে পারেন না। এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের নয়, ওষুধ প্রশাসনেরও দেখার বিষয়।

সৈয়দপুর ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোস্তফা বলেন, এ ব্যাপারে সমিতির সরাসরি কিছু করার নেই। এটি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রশাসনের বিষয়। তবে তাদের দোকানে রোগী বা স্বজনরা প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ কিনতে এলে কারও ছবি তুলতে দেওয়া হয় না। তিনি আরও বলেন, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে সমিতি সতর্ক রয়েছে। তবে কিছু কোম্পানি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ তুলে নিতে গড়িমসি করে।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওষুধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের বিষয়টি সরাসরি তাদের আওতায় না পড়লেও এ ধরনের কাজ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল ওষুধ বিক্রির বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেলে তা কোম্পানিকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, নিবন্ধিত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া, এমনকি পল্লী চিকিৎসক বা গ্রাম্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনেও কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রি করার এখতিয়ার কোনো ওষুধ বিক্রেতার নেই। এছাড়া প্রেসক্রিপশন ছাড়া রোগের উপসর্গ শুনে ওষুধ দেওয়াও নিয়মবহির্ভূত। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy