
X
ছবি: প্রতিনিধি
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিবৃষ্টির তীব্র স্রোতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি স্টীল ব্রিজ ভেঙে গেছে। এতে নদীর দুই পাড়ের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
কৃষিপণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শত শত শিক্ষার্থীর নিয়মিত যাতায়াত বন্ধ হয়ে শিক্ষাজীবনেও নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা-নয়াপাড়া এলাকায় প্রায় দুই বছর আগে জেলা পরিষদের নির্মিত প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ স্টীল ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল এই সেতু। কিন্তু সম্প্রতি ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে চেল্লাখালী নদীতে সৃষ্টি হওয়া প্রবল স্রোতে মুহূর্তেই ব্রিজটি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ব্রিজটি ধসে পড়ায় দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা, নয়াপাড়া, তারানিপুর, বর্শাবাড়ি, ডারহাবাড়ীসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না। রোগী পরিবহন, জরুরি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা আবিদ জানান, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় তাদের স্কুল-কলেজে যেতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে কলার ভুর বানিয়ে পার হচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ভেঙে গিয়ে কাদায় পরিণত হয়। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ঢালাই ব্রিজ করে দেওয়ার জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়াতে আমরা বিরাট বড় বিপদে পড়েছে। এপারের মানুষের ওইপারে যাইতে পারছেনা। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। দ্রুত একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং স্থায়ীভাবে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সবুর আলী বলেন, চেল্লাখালী নদীর বিশাল তরঙ্গ, বিশাল স্রোতে ব্রিজ ভাসিয়ে নিয়ে যায়।এর পর থেকেই লাখ লাখ মানুষ আমরা চরম বিপদে পড়ে আছি। এইপারের মানুষ ওই পারে যাইতে পারছে না। দড়ি টানিয়ে কলার ভেলায় চেপে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাচ্ছে। সরকারের কাছে একটি স্থায়ী ব্রিজ এখানে নির্মান করে দেওয়ার অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও বাঘবেড় ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক বলেন, হঠাৎ করেই পাহাড়ী ঢলে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার মানুষজন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিরাট বিপাকে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে চলাচল করার জন্য একটা নৌকা পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারীভাবে একটি স্থায়ী ব্রিজ করার পক্রিয়া চলছে যা শুকনো মৌসুমে করা হবে বলে জানতে পেরেছি।
এবিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা পরিষদকে জানিয়েছি, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।