
X
ছবি: প্রতিনিধি
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, "একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি আমাদের অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে।"
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তির সোপানে সামাজিক বন বিভাগ, পাবনার আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খানের সভাপতিত্বে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুর নব্বী খান জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সামাজিক বন বিভাগ, পাবনার কাজী তারিকুর রহমান প্রমূখ।
জেলা প্রশাসক বলেন, "সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি যেমন পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তেমনি উপকারভোগীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাও নিশ্চিত করছে। সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের। একটি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে প্রত্যেকেই পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।"
এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, জেলা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি একাব্বর আলী, বন সংরক্ষক সহকারী ও বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব রিজিয়া পারভীন মিষ্টি, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনারগণ, বন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন নার্সারির মালিক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির ১০০ জন উপকারভোগীর মধ্যে জনপ্রতি ৩২ হাজার ৭৫৬ টাকা হারে মোট ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৬০ টাকার চেক বিতরণ করেন।