
X
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে।
অন্যদিকে, এর আগেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে একই পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
এই পরিস্থিতি জামায়াত ও এনসিপির ভবিষ্যৎ সমঝোতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই দল একসঙ্গে অংশ নিয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এখন উভয় দলই নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, আসিফ মাহমুদ আগে ঢাকা-১০ আসন থেকে সংসদ নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।
এনসিপির একাধিক নেতার দাবি, তখনও জামায়াত তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণেই এই অনীহা ছিল।
এনসিপির আরেকটি সূত্রের দাবি, সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় জামায়াতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে আসিফ মাহমুদের অবস্থান দলটির কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। তবে সেই বিষয়গুলো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা হয়নি। তবুও বছরের শেষ দিকে ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা ধরে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এনসিপি ইতোমধ্যে পাঁচটি সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দলটির মনোনীত প্রার্থী আসিফ মাহমুদ।
দলটির নেতারা বলছেন, আপাতত তারা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোট গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গত জুনে অনুষ্ঠিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরে জুলাই মাসে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদ ছেড়ে দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জামায়াতের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছেন আসিফ মাহমুদ।
আসিফ মাহমুদ কী করবেন?
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আসিফ মাহমুদ কি ঢাকা দক্ষিণ থেকেই নির্বাচন করবেন, নাকি অন্য কোনো সিটিতে প্রার্থী হবেন? আবার নতুন কোনো নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে কি না, সেটিও এখনো অনিশ্চিত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। তাঁর মতে, ভোটের তফসিল ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি আনুষ্ঠানিক জোট না হয়ে নির্বাচনী সমন্বয়ও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এনসিপির লক্ষ্য
আসিফ মাহমুদের মতে, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিত সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এনসিপির তৃণমূল সংগঠন প্রত্যাশিতভাবে বিস্তৃত হতে পারেনি। তাই এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটি যতটা সম্ভব নিজস্ব প্রতীকে অংশ নিতে চায়। প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক সমঝোতা হলেও অন্তত ৭০ শতাংশ এলাকায় নিজেদের প্রার্থী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও এনসিপির সম্পর্ক, সমঝোতার সম্ভাবনা এবং প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি আগামী কয়েক মাসে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।