
X
নিখোঁজ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী
মাগুরা শহর থেকে নিখোঁজ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফরিদপুরের কামারখালী এলাকা থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে মাগুরা জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের ফলে উৎকণ্ঠায় প্রহর গোনা একটি পরিবারের মুখে ফিরে এসেছে স্বস্তির হাসি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী আয়শানুর (আয়েশা নুর) মাগুরা শহরের কলেজপাড়ার প্রবাসী মো. শাহিনুর বিশ্বাসের মেয়ে এবং স্থানীয় সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আয়শানুরকে মাগুরা শহরের কেশব মোড় থেকে সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য একটি ইজিবাইকে তুলে দেন তার মা মমতা বেগম। তবে নির্ধারিত সময়ে সে মাদ্রাসায় না পৌঁছালেও প্রথমদিকে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসেনি।
সকাল ১০টার দিকে ছাত্রীর মায়ের মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনকারী জানান, মাগুরা ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় একটি ব্যাগের মধ্যে কিছু বই-খাতা পাওয়া গেছে। বই-খাতায় থাকা মোবাইল নম্বর দেখে তিনি যোগাযোগ করছেন। খবর পেয়ে ছাত্রীটির মা দ্রুত মাদ্রাসায় গিয়ে জানতে পারেন, তার মেয়ে সেখানে পৌঁছায়নি।
এতে দিশেহারা হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ছুটে যান এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েকে উদ্ধারের আবেদন জানান।
অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে মাগুরা জেলা পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই করে পুলিশ সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তের কাজ শুরু করে।
এদিকে দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রীর মায়ের কাছে আবারও একটি ফোন আসে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আয়শানুর জানায়, সে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার কামারখালী পুরাতন টোল প্লাজা এলাকায় রয়েছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করার জন্য মায়ের কাছে আকুতি জানায় সে।
ফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সময় নষ্ট না করে মাগুরা জেলা পুলিশের একটি দল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। অল্প সময়ের মধ্যেই ফরিদপুরের কামারখালী এলাকা থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিরাপদে মাগুরায় এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ছাত্রী আয়শানুর জানায়, সকালে মা আমাকে কেশব মোড় থেকে ইজিবাইয়ে তুলে দেন। মাগুরা সরকারি কলেজের সামনে যাওয়ার পর কী হয়েছে, আমার আর মনে নেই। পরে জ্ঞান ফিরে দেখি আমি একটি ঘরের মধ্যে পড়ে আছি। দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে দেখি বাইরে থেকে বন্ধ। অনেক চেষ্টা করে জানালা দিয়ে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে যাই। সেখানে সাহায্য চাই এবং দোকানদারের মোবাইল ফোন দিয়ে মাকে কল করি। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, সকালে এক মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমার কার্যালয়ে এসে জানান, তার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা পুলিশের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জেলার বাইরে ফরিদপুরের কামারখালী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এটি কোনো অপহরণচক্রের কাজ কি না বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
মাগুরা জেলা পুলিশের এই দ্রুত, দায়িত্বশীল ও পেশাদার অভিযানের ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অসহায় এক মায়ের চোখের অশ্রু মুছে দিয়ে নিরাপদে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনায় জেলা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।