এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে সম্প্রতি হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত স্লোগান, ভাষা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আন্দোলনকারীদের পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও মেমে অনেকের কাছে সৃজনশীলতার প্রকাশ হলেও কিছু ক্ষেত্রে অশালীন ভাষার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কঙ্গনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেন-জি আন্দোলনকারীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি তাদের ব্যবহৃত ভাষা ও অনলাইন পোস্টকে ‘কুরুচিকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, জীবনে এমন বিশৃঙ্খল ও অস্বস্তিকর দৃশ্য আগে দেখেননি। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের পরিবার ও বেড়ে ওঠা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
কঙ্গনা আরও দাবি করেন, কিছু বিক্ষোভকারী নিজেদের পরিচয় ও আচরণে দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করছে। বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের নিয়েও তিনি কঠোর মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তিনি পুরো তরুণ প্রজন্মের একটি অংশকে ‘জেনারেশন গাটার’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, তারা সমাজ ও ব্যবস্থায় ইতিবাচক অবদান রাখছে না।
কঙ্গনার এসব মন্তব্যের পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা ভাই জাগতাপ তার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় কঙ্গনার কোনো অনুশোচনা আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এমন ভাষা ব্যবহার করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দলের নেতাদের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত। এবার জেন-জি আন্দোলনকারীদের নিয়ে তার বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।