প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম (ভিজিট : ৫৩)

X
বিচারের অপেক্ষায় শহীদ মাহবুবের মা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল ছিল শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকা। আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনে জেলা প্রশাসনের তৎকালীন এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বহনকারী একটি দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন শিক্ষার্থী মাহবুব আলম।
ঘটনাস্থলেই ঝরে যায় একটি তরতাজা প্রাণ। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মৃত্যুর বিচার এখনো অধরাই রয়ে গেছে। বিচার না পাওয়ার বেদনা আর ছেলেহারা মায়ের অশ্রু যেন সময়ের সঙ্গে আরও ভারী হয়েছে।
শেরপুর সদর উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চৈতনখিলা গ্রামের মাহবুবের বাড়িতে গেলেই চোখে পড়ে নিস্তব্ধতা। ঘরের এক কোণে পড়ে আছে তার পড়ার টেবিল, বই-খাতা ও অসমাপ্ত স্বপ্নের স্মৃতি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা মোছা. মাফুজা খাতুন এখনো প্রতিদিন ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কাঁদেন। তার চোখের জল যেন দুই বছরেও শুকায়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সেদিন আমার ছেলে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় আইটি সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে আন্দোলনে যোগ দেয়। মিছিল চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি এসে আমার ছেলেকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি ট্রলিতে পড়ে আছে আমার সন্তানের নিথর দেহ। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি চাই।
পরিবারের অভিযোগ, মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। তাদের দাবি, তদন্তের বিভিন্ন ত্রুটি ও আইনি জটিলতার কারণে এখনও প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হয়নি। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার এ.কে.এম. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাহবুব আলম হত্যা মামলায় মোট ১৫০ জন এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধিকতর তদন্ত করছে।