প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৬ পিএম (ভিজিট : ৩০)

X
‘নো হর্ন’ কর্মসূচি
দেশের অন্যতম শিল্পনগরী গাজীপুরকে পর্যায়ক্রমে শব্দদূষণমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার বন্ধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘নো হর্ন’ কর্মসূচি।
আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে শব্দদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, শব্দদূষণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একক উদ্যোগ নয়, বরং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গাজীপুরকে শব্দদূষণমুক্ত করা হবে।
সভায় আগামী ১২ সপ্তাহের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি যানবাহনে ‘নো হর্ন’ কার্যক্রম চালু ও ‘সাইলেন্ট ড্রাইভিং’ স্টিকার সংযুক্ত করা, সরকারি দপ্তরের চালকদের অঙ্গীকারনামা গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যানবাহনে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার বন্ধ করা এবং হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকাকে ‘সাইলেন্ট জোন’ হিসেবে কার্যকর করা।
এছাড়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে হর্ন ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা, মোটরসাইকেল চালকদের নিয়ে ‘স্মার্ট রাইডার’ সচেতনতামূলক কর্মসূচি, গণপরিবহন চালক ও মালিকদের নিয়ে সভা, সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে উচ্চশব্দের হর্ন অপসারণ এবং প্রধান সড়কগুলোতে চালকদের প্রতিশ্রুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি হাইড্রোলিক ও অবৈধ উচ্চশব্দের হর্ন অপসারণে বিশেষ অভিযান এবং নীরব এলাকায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ৭০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর এবং অতিরিক্ত শব্দ উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সভায় গাজীপুর জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।