সৈয়দপুরে ‘লোগোসংবলিত ভিডিও’ চ্যানেলের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিক নাকি কর্মচারী?

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি যারা নিজেরা সরকারি সুযোগ-সুবিধাধারি স্কুল

2026-07-30T12:44:45+00:00
2026-07-30T12:44:45+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
সৈয়দপুরে ‘লোগোসংবলিত ভিডিও’ চ্যানেলের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিক নাকি কর্মচারী?
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম   (ভিজিট : ৯২)
প্রতীকী ছবি
X

প্রতীকী ছবি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি যারা নিজেরা সরকারি সুযোগ-সুবিধাধারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকসহ সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তারা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের স্থানীয় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন ? তারা চাকরি করে কিভাবে সাংবাদিক সেজেছেন তা’নিয়ে এলাকার বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। 

দেড়যুগ আগেও লক্ষ্য করা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি-আধা সরকারি দপ্তরের বেশ ক’জন ব্যক্তি চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে আসছিলেন। এমনকি প্রেসক্লাবের কমিটি করতেও এসব কর্মচারিদের দাপট ও ভুমিকা ছিল ব্যাপক কারণ এনারা এবং এনাদের দোসররা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য এক হয়ে প্রেসক্লাব পরিচালনা সহ কমিটি গঠনে একাট্টা ছিল। 

এইরকম প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে ২০১২ সালে ভোটার তালিকার বিষয় নিয়ে এক অভিযোগ নীলফামারী জেলা জজ আদালতে গড়ায়। তখন সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে বাদি ও বিবাদিপক্ষের শুনানি শেষে মাননীয় আদালতের বিচারক এক রায়ে ১৯৭৯ সালের সার্ভিস রুলের ২১ ও ২২ ধারা মতে সরকারি-আধা সরকারি কর্মচারি যারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন তাদের সাংবাদিকতা দুরের কথা এনারা টেম্পোরারি কোনো কাজও করতে পারবেন না এবং তাদেরকে প্রেসক্লাবের সদস্য করা অন্যায় হয়েছে বলে সেইসব কর্মচারিদের ক্লাব থেকে বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা নতুন করে প্রকাশ করে নির্বাচন করার আদেশ দেন। 

বিবাদিপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করলে সেখানেও একই আদেশ বহাল থাকে। এবং সেই অনুযায়ী সেইসব কর্মচারিদের প্রেসক্লাবের সদস্য পদ বাতিল করা হয়। এরপর সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি এলএলবি (আইন) নিয়ে পাশ করে একইসাথে ওকালতি পেশা শুরু করলে স্থানীয় দাগ’ পত্রিকায় এনিয়ে ‘টু ইন ওয়ান’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে লক্ষ্য করা গেছে, ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় ওকালতি পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন যা’ তিনি এ প্রতিবেদকের কাছেও স্বীকার করেন। 

এখনও দীর্ঘদিন থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি-আধা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসাবে চাকরি করার পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এনারা কোনো সরকারি নীতিমালার ধার ধারেন না। এমনকি অভিযোগ রয়েছে এরকম ব্যক্তিরা যেসব সংবাদ মাধ্যমে কাজ করেন সেখানে তাদের চাকরির তথ্য গোপন রেখে আবেদন করে সাংবাদিকের কাজ করছেন। 

আবার আরো লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এনাদের ক’জন চাকরি করার তথ্য গোপন করে স্থানীয় পত্রিকা ও নিউজ পোর্টালের প্রকাশক ও সম্পাদক সেজেছেন। কেউবা আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও’তে লোগো লাগিয়ে ফেসবুকে ভিডিও’ সংবাদও প্রকাশ করে চলেছেন। নিজ-নিজ লোগো লাগিয়ে এলাকায় এখন বেশ কয়েকটি ফেসবুক চ্যানেলে খবরসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের টেলিকাস্টও দেখানো শুরু করেছেন। 

তাদের এসব কাজ-কারবারে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে এনারা কর্মচারি না সাংবাদিক ? এনারা কিভাবে পত্রিকা ও নিউজ পোর্টালের প্রকাশক ও সম্পাদক সেজেছেন ? আর কিভাবেই বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ প্রতিষ্ঠানের লোগো লাগিয়ে খবর প্রচার ও বিভিন্ন প্রোগ্রামের টেলিকাস্ট দেখাচ্ছেন। 
তাছাড়া, অভিযোগ রয়েছে, এনারা টাকার বিনিময়ে সংবাদ সম্মেলন, বিভিন্ন শপিংমলসহ দোকান ওপেনিংয়ের খবরসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের টেলিকাস্ট করেন। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারসহ বিভিন্ন দূর্ঘটনার খবরও প্রকাশ করেন। এনাদের আবার কয়েকজন প্রতিনিধি বলে পরিচয়ও দিয়ে বেড়ান। তাদের নাকি পরিচয়পত্রও রয়েছে। তারা কি সরকারি আইন-কানুন মেনে এসব কাজ করছেন ? এসব প্রকাশের জন্য তাদের কি সরকারি অনুমোদন নেওয়া রয়েছে ? এমন প্রশ্ন এলাকার অনেক বোদ্ধা মহলের। 

তাছাড়া এলাকাবাসী লক্ষ্য করে আসছেন, এনাদের সাথেই বা কেনো প্রশাসনের লোকজনদের এতো ক্ষাতির ? এমনও বেশ কয়েকজন রয়েছেন এনারা আবার মোটর-সাইকেলে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান। অবশ্য সংবাদ সংগ্রহে বেড়ানো স্বাভাবিক। 

তবে, অভিযোগ রয়েছে এনারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের যেসব কাজ করবার কথা তারা যেনো নিজেই কর্মকর্তা এমন ভাব দেখিয়ে চলেন। এমন ক’জনের ভিডিও’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোকজন দেখেছেন। এমনও ক’জন রয়েছেন আগে সংবাদকর্মি ছিলেন কিন্তু, এখন কোনো পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্রও নেই। 

আবার কারো পরিচয়পত্র থাকলেও নিয়োগপত্র নেই। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে দেখা উচিত বলে মত পোষন করছেন এলাকার বোদ্ধামহল।

স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের সাংবাদিকতা করার ব্যাপার নিয়ে মোবাইল ফোনে দিনাজপুর শিক্ষা বেেির্ডর চেয়ারম্যান ড, ইলিয়াস হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সার্ভিস রুল অনুযায়ী তারা সাংবাদিকতা করতে পারেন না। এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

চাকরিজীবিরা সাংবাদিকতা করতে পারবেন কি-না ? এবং ফেষবুক ভিত্তিক ভিডিও’ চ্যানেলের ব্যাপারে কথা বলার জন্য নীলফামারী জেলা প্রশাসকের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সাথে এসব ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy