
X
মাহবুবুল হক নান্নু (ভিপি নান্নু)
বিএনপির নেতা মাহবুবুল হক নান্নু। বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন। রাজনীতির শুরুটা ছিলো ছাত্রজীবন থেকে। বরিশাল, ঝালকাঠি ছাড়াও দলের হাইকমান্ডের কাছে তিনি ভিপি নান্নু নামে বেশি পরিচিত।
ঝালকাঠির সন্তান মাহাবুবুল হক নান্নু তার জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতি ও সংগঠন গড়ে তোলার কাজে। রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে হয়েছে ৬০টির বেশি মামলা। একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাঁকে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বীরসেনা গ্রামের মরহুম আতাহার আলী খানের মেজ ছেলে মাহবুবুল হক নান্নু। ৫৫ বছর বয়সী এই নেতার রাজনৈতিক পথচলা শুরু আশির দশকে, ছাত্রজীবন থেকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবাস ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তিনি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন।
একান্ত আলাপে সার্চ বিডি নিউজকে মাহবুবুল হক নান্নু জানান, হাইস্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে বুকে ধারণ করে সে সময় ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।
পরবর্তীতে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজে ভর্তি হওয়ার পর রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৮৭ সালে তিনি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর দুই বছর পর তাঁকে সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
১৯৯১ সালে সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন মাহবুবুল হক নান্নু। ওই নির্বাচনে তিনি এজিএস নির্বাচিত হন।
ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ বাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি পড়াশোনাও চালিয়ে যান। বিএম কলেজ থেকে বি.কম (অনার্স) সম্পন্ন করার পর হিসাববিজ্ঞানে এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদে দুইবার বরিশাল বিভাগীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ২০০১ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদ লাভ করেন।
২০০৮ সালে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন মাহবুবুল হক নান্নু। পরের বছর তাঁকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়। পরে ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬০টির বেশি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
১৯৯৫ সালে ঢাকার কাকরাইলে অনুষ্ঠিত একটি ছাত্র কনভেনশনে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নান্নুর দেওয়া একটি বক্তব্য ছিলো "শেখ হাসিনা মুক্ত বাংলাদেশ চাই"। তার এমন বক্তুতা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
ওই বক্তব্যের পরের বছর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল সার্কিট হাউজ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তিনি এক বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। মুক্তির পর বরিশালে নান্নুকে নিষিদ্ধ করেছিলো আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। সেই থেকে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিকভাবে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ভাইইরাল বক্তব্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নান্নুর বহুদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।
একান্ত সাক্ষাৎকারে মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, “দলের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা করে ব্যক্তিগতভাবে কী পেলাম বা পাইনি, সেটি বড় কথা নয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। শহীদ জিয়া ও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এটাই আমার আত্মতৃপ্তি। পতিত সরকারের আমলে আমি চার বছর জেল খেটেছি। কিন্তু আজ আমরা গোটা দেশবাসী মুক্ত। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।'
ঝালকাঠি ও নলছিটি অঞ্চলে মাহবুবুল হক নান্নুর সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুদিন রাজনীতির মাঠে কম সক্রিয় থাকলেও সুস্থ হয়ে তিনি আবারও স্থানীয় রাজনীতিতে সরব ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা তাদের।
তাদের ভাষায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও মাহবুবুল হক নান্নু দল ও আদর্শ থেকে সরে যাননি। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির পথ পেরিয়ে ঝালকাঠির রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ত্যাগ আগামী দিনেও দলীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা।