প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ পিএম (ভিজিট : ৩৮)

X
প্রতীকী ছবি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ সংকটের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ছাত্র ছাত্রীর পড়াশোনা বিপর্যস্ত, ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সময় মতো বিদ্যুৎ না থাকার কারণে লেখাপড়ায় মনোযোগ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বৈদ্যুতিক ব্যবহৃত ব্যবসায় লোকসানের পাল্লা ভাড়ি হওয়ার ঝুঁকিতে অনেক ব্যবসায়ী। গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন বাড়ছে রোগব্যাধি, আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধ মানুষেরা।
এই আধুনিক যোগে বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে বেশি প্রভাব পরেছে শিক্ষা ও ব্যবসা ক্ষেত্রে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেখা মিলেনা বিদ্যুৎএর আলো। তীব্র গরম আর আলোর অভাবে পড়তে বসেনা কোমল মতি শিক্ষর্থী সহ স্কুল কলেজে পড়োয়া শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া দিনেও বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠদান গ্রহনের অনিহার মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে তাদের। ভেপসা গরমের কারণে রাতে ঠিক মতো ঘুমাতে পারছে না শিশু সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা। এতে বেড়েছে রোগব্যাধির পাদুর্ভাব, হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় মিলছেনা বিদ্যুৎ এর দেখা।
স্থানীয়দের অভিযোগ ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। ২৪ ঘন্টার মধ্যে গড়ে ৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, বাকি ১৮ ঘন্টাই বিদ্যুৎ ছাড়াই থাকতে হয় গ্রাম অঞ্চলের মানুষ। অতিষ্ট জনজীবনে চরম দুর্ভোগে পরেছে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। বিদ্যালয়ে ক্লাস করার সময় বিদ্যুৎ নাই, সন্ধ্যার পর বাসায় পড়ার সময় বিদ্যুৎ নাই।
ব্যবসায়ীরা চালাতে পারছেন না রাইস মিল,বরফ মিল, workshop ওয়াল লিং মেশিন সহ বৈদ্যুতিক ব্যবহৃত সকল ধরনের ব্যবসাই বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে এমন অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সহ গ্রামঅঞ্চলে, ছোট বড় হাট বাজারে এমনই চিত্র দেখা যায়। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছেনা বিদ্যুৎ। তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও প্রবীণ মানুষ।দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
তাছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য দেখা দিয়েছে সীমাহীন দুর্দশা। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক হাসপাতালে রোগীদের স্বজনেরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিদ্যুৎ এর কারণে। এছাড়াও ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হতেও দেখা যায়। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ভ্যানচালকরা। সময়মতো ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় তাদের আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
নেত্রকোনার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের অধীনে ধর্মপাশা উপজেলা উপকেন্দ্র অফিস জানিয়েছে, মধ্যনগর উপজেলায় দৈনিক ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ধর্মপাশা সাব স্টেশন ফুল লোড ৮ মেগাওয়াট চাহিদা। এর মধ্যে মধ্যনগর ৪নং ফিডার চালু করতে লাগে একাই ৩.৬০মেগাওয়াট।