ইজারা পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, মাছ লুটের অভিযোগ নতুন দরদাতার বিরুদ্ধে

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় অর্পিত সম্পত্তির একটি ইজারাকৃত পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে নতুন সর্বোচ্চ দরদাতার বিরুদ্ধে প্রায়

2026-08-01T15:51:45+00:00
2026-08-01T15:51:45+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
ইজারা পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, মাছ লুটের অভিযোগ নতুন দরদাতার বিরুদ্ধে
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম   (ভিজিট : ৩৫)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় অর্পিত সম্পত্তির একটি ইজারাকৃত পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে নতুন সর্বোচ্চ দরদাতার বিরুদ্ধে প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ করেছেন সাবেক ইজারাদার।

এ অভিযোগ এনে শনিবার সকালে ফুলবাড়ী রাবেয়া কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুকুরটির সাবেক ইজারাদার শ্রী পূর্ণ চন্দ্র দাস। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নতুন সর্বোচ্চ দরদাতা নুরুল মাস্টার।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাসান বলেছেন, সর্বোচ্চ দরদাতা এখনো ইজারার সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেননি। ফলে নতুন ইজারা এখনো কার্যকর হয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ অবস্থায় সাবেক ইজারাদারের মাছ ধরাও আইনসম্মত নয়। বিষয়টি আদালতে গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শ্রী পূর্ণ চন্দ্র দাস বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের ১ নম্বর খতিয়ানের ১৬০৮ নম্বর দাগভুক্ত ৪ একর ৫৫ শতক আয়তনের অর্পিত সম্পত্তির পুকুরটি তিনি প্রায় ২৪ বছর ধরে সরকারি বিধি অনুযায়ী ইজারা নিয়ে ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিশোধ করে মাছ চাষ করে আসছেন।

তিনি জানান, তিন বছরের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ২৩ জুলাই উপজেলার খাস ও অর্পিত পুকুরের উন্মুক্ত ডাক অনুষ্ঠিত হয়। ওই ডাকে তিনি ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দর দিলেও নুরুল মাস্টার ৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন।

পূর্ণ চন্দ্র দাসের দাবি, পুকুরে তাঁর প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ ছিল। গত ২৭ জুলাই তাঁকে কোনো সুযোগ না দিয়ে রাতের আঁধারে নুরুল মাস্টার লোকজন নিয়ে পুকুরের মাছ তুলে নিয়ে যান। তাঁর অভিযোগ, পুকুর ডাক কমিটির কিছু সদস্যের যোগসাজশে সরকারি কোষাগারে ইজারার অর্থ জমা দেওয়ার আগেই তাঁর চাষ করা মাছ তুলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁদের সাড়া পাননি। পরে ফুলবাড়ী থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছবোঝাই একটি পিকআপ ও মাছ ধরার জাল আটক করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে দেখা করলে তাঁকে দেওয়ানি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পূর্ণ চন্দ্র দাস তাঁর চাষ করা মাছ লুটের ঘটনার বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে নুরুল মাস্টার বলেন, “আমি বৈধভাবে সর্বোচ্চ দর দিয়ে পুকুরটির ইজারা পেয়েছি। আগের ইজারাদারকে মাছ তুলে নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি মাছ না তুলে পুকুরে মেশিন দিয়ে সেচ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাই বাধা দেওয়া হয়েছে। মাছ লুটের অভিযোগ সঠিক নয়।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাসান বলেন, “পুকুরটি উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতা এখনো সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেননি। তাই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় পূর্বের ইজারাদারের মাছ ধরা আইনসম্মত নয়। তিনি আদালতে মামলা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy