
X
সংগৃহীত ছবি
ভারতের কেরালার চঙ্গনাচেরিতে অনুষ্ঠিত এক বিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, এই বিয়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন একজোড়া করে যমজ।
গত ৩০ জুলাই চঙ্গনাচেরি মেট্রোপলিটন চার্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বর আখিল কে থমাস বিয়ে করেন ম্যাগি মেরিকে, আর তাদের পাশে দাঁড়ান যথাক্রমে আখিলের যমজ ভাই নিখিল কে থমাস এবং ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া মেরি। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন বিয়েটিকে এক অনন্য ও স্মরণীয় ঘটনায় পরিণত করেছে।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজন আরও অনন্য হয়ে ওঠে, যখন বিয়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন একজোড়া যমজ পুরোহিত। আর বেদিতে তাদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আরও একজোড়া যমজ কিশোর। ফলে অনুষ্ঠানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বেই ছিল যমজদের উপস্থিতি, যা পুরো আয়োজনকে বিরল ও নজিরবিহীন করে তোলে। দুই পরিবারের কাছে এটি শুধু একটি বিয়ের অনুষ্ঠান নয়, বরং বহু বছর ধরে লালিত এক স্বপ্নের আবেগঘন বাস্তবায়ন।
জানা যায়, কেরালার চঙ্গনাচেরির ভেট্টুপারামবিলের বাসিন্দা কুঞ্জুমন থমাস ও জোমোলের যমজ সন্তান আখিল এবং নিখিল। অন্যদিকে, পাঠানমথিট্টা জেলার কুলাথুরের কুম্বুলুভেলিলের বাসিন্দা টমিচান ও মেরিকুটির যমজ কন্যা ম্যাগি এবং মারিয়া।
অবাক করার বিষয় হলো, বিয়ের পুরোহিতও ছিলেন যমজ। কাঞ্জিরাপল্লী ডায়োসিসের যমজ পুরোহিত ফাদার অ্যান্টো পেঝুমকাট্টিল ও ফাদার আজো পেঝুমকাট্টিল বিয়ে পরিচালনা করেন। অন্যদিকে বেদিতে তাদের সহায়তা করেন আরেক যমজ দুই ভাই জেরন জেমস ও জোহন জেমস।
বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব ভূমিকায় যমজদের উপস্থিত থাকাটা কিন্তু আকস্মিক ছিল না। কনেরা নিজেরাই যমজ পুরোহিতদের সন্ধান করছিলেন। অবশেষে যমজদের বিশেষ জমায়েতের জন্য পরিচিত কোঠানাল্লুরের একটি গির্জার মাধ্যমে তারা এই যমজ পুরোহিতদের খুঁজে পান।
যমজ দুই বোন বলেন, ‘যমজ মানুষদের ঘেরা পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা আমাদের ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল। আমাদের মা-বাবা এবং পরিবারের সবাই এটিই চেয়েছিলেন। যীশুখ্রিস্ট আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আমরা যখন ফাদারদের নিমন্ত্রণ জানাই, তারা তৎক্ষণাৎ রাজি হন।’
বিয়ের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করে পুরোহিতরাও তাদের বিশেষ অনুভূতির কথা জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা বলেন, ‘যমজদের বিয়ে দেওয়া অত্যন্ত বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা, যা আমাদের সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। এ ধরনের বিশেষ মুহূর্ত আমাদের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।’
নিজেরা যমজ হওয়ার স্মৃতিচারণ করে তারা আরও বলেন, ‘ওরা একসঙ্গে জন্মেছে এবং একসঙ্গে একটি নতুন জীবন শুরু করছে। আমরা দুজনও একইভাবে একসঙ্গে যাজকত্বে বা ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলাম। এটি সত্যিই এক সুন্দর অনুভূতি।’
পেশাগত জীবনে বর আখিল ও নিখিল দুজনেই মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত, অন্যদিকে দুই বোন ম্যাগি ও মারিয়া কর্মরত রয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে।
ভিড়ের মাঝে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা যমজ জুটির মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের গণ্ডি পেরিয়ে এই বিয়ে যেন এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে জীবনের পথ ভিন্ন হলেও কিছু বিশেষ সম্পর্কের সূচনা একসঙ্গে হওয়া কতটা আনন্দময় ও অর্থবহ হতে পারে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন শুধু উপস্থিত অতিথিদেরই মুগ্ধ করেনি, বরং দুই পরিবারের কাছেও হয়ে উঠেছে আজীবন মনে রাখার মতো এক অসাধারণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত।